দিল্লি বিস্ফোরণ: আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটিতে NIA অভিযান, ভুয়া NAAC দাবি ও জঙ্গি যোগের অভিযোগ

দিল্লি বিস্ফোরণ: আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটিতে NIA অভিযান, ভুয়া NAAC দাবি ও জঙ্গি যোগের অভিযোগ
সর্বশেষ আপডেট: 13-11-2025

দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটি এবং এর কলেজগুলির বিরুদ্ধে ভুয়া NAAC দাবির অভিযোগ উঠেছে। NIA এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়েছে, সন্দেহজনক নথি এবং সন্ত্রাসী মডিউলের সূত্র পাওয়া গেছে।

দিল্লি বিস্ফোরণ: দিল্লির লাল কেল্লার কাছে হওয়া গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের তদন্তে ফরিদাবাদে অবস্থিত আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটি এবং এর মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত সংস্থাগুলির মতে, বিশ্ববিদ্যালয়টি তার ওয়েবসাইটে মিথ্যা দাবি করেছে যে তার একাধিক কলেজ NAAC দ্বারা স্বীকৃত। এই ভুয়া দাবির কারণে জাতীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে।

NAAC-এর নোটিশ

NAAC-এর নোটিশে স্পষ্ট লেখা আছে যে আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটি স্বীকৃতি অর্জন করেনি এবং A&A চক্র-১ এও অংশগ্রহণ করেনি। এরপরেও বিশ্ববিদ্যালয়টি তার ওয়েবসাইটে দাবি করেছে যে তার তিনটি কলেজ NAAC থেকে A গ্রেড পেয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে আল-ফলাহ স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, ব্রাউন হিল কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি এবং আল-ফলাহ স্কুল অফ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং। NAAC বলেছে যে এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং এর দ্বারা অভিভাবক, ছাত্র এবং অন্যান্য অংশীদাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

NIA এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের তদন্ত

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-এর একটি যৌথ দল আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের সময় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলিতে কিছু গোপন কোড লেখা পাওয়া গেছে। এই ডায়েরিগুলিকে দিল্লি বিস্ফোরণের সাথে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংস্থাগুলির ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি সন্ত্রাসী মডিউলগুলির জন্য একটি গোপন কার্য পরিচালনার স্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

চার শহরে হামলার পরিকল্পনা

তদন্তে এই তথ্যও সামনে এসেছে যে ডাক্তার মডিউলের জঙ্গিরা দেশের চারটি শহরে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিল। প্রতিটি গ্রুপকে একটি শহরে বিস্ফোরণ ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। NIA এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই গ্রুপগুলির কার্যকলাপ, ভ্রমণ ইতিহাস এবং নেটওয়ার্কের বিস্তারিত তদন্ত করছে।

ওয়েবসাইটে ভুয়া দাবি নিয়ে কেন প্রশ্ন বাড়ছে?

আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটির NAAC স্বীকৃতির মিথ্যা দাবি ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দাবি কেবল শিক্ষা খাতের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই দুর্বল করে না, বরং নিরাপত্তা তদন্তের সময় সংস্থাগুলির জন্য এটি একটি ইঙ্গিত হতে পারে যে ক্যাম্পাসে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলছে। NAAC স্পষ্ট করেছে যে এই ধরনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবিলম্বে তাদের ওয়েবসাইট আপডেট করতে হবে এবং সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সতর্কতা

দিল্লি বিস্ফোরণ এবং আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটির ভুয়া দাবির মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক রয়েছে। দিল্লি, ফরিদাবাদ এবং অন্যান্য সংবেদনশীল অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সংস্থাগুলি নিশ্চিত করছে যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ সময় মতো প্রতিরোধ করা যায়। NIA এবং পুলিশ ক্রমাগত সন্দেহভাজনদের ট্র্যাকিং, কল ডিটেইলস, ব্যাংক লেনদেন এবং অনলাইন কার্যকলাপের তদন্ত করছে।

Leave a comment