কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Digvijaya Singh তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-কে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং ইন্ডিয়া ব্লকের রাজনীতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি টিএমসির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা একটি দলের মধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া আলোচনার বিষয়।
ইন্ডিয়া ব্লকের প্রস্তাবিত বৈঠকের আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল All India Trinamool Congress সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, ইন্ডিয়া ব্লকের সঙ্গে টিএমসির সম্পর্ক সবসময়ই কিছুটা ভিন্ন ধরনের ছিল।
টিএমসিতে সামনে আসা ঘটনাবলি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় সরকারে থাকা একটি দলে কীভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা তাঁকে বিস্মিত করছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
দিল্লিতে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
দিগ্বিজয় সিং ইঙ্গিত দেন যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী ঐক্যকে শক্তিশালী রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই জোট শুধুমাত্র একটি দলের মঞ্চ নয়, বরং বিভিন্ন বিরোধী দলের অভিন্ন রাজনৈতিক ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে।
তামিলনাড়ুর শাসক দল Dravida Munnetra Kazhagam-এর বৈঠকে অংশগ্রহণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি। তিনি বলেন, ডিএমকে শুরু থেকেই ইন্ডিয়া জোটকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছে এবং দলটির সঙ্গে কংগ্রেসের ইতিবাচক রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
![]()
দিগ্বিজয় সিং বলেন, ডিএমকের ইন্ডিয়া জোটের অংশ হিসেবেই থাকা উচিত, কারণ এই জোট কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়, বরং একটি যৌথ আদর্শিক মঞ্চ। তাঁর মতে, বিজেপির নীতি ও মতাদর্শের বিরোধিতায় গঠিত এই প্ল্যাটফর্মে সব সহযোগী দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক মন্তব্যের পাশাপাশি তিনি জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) সংক্রান্ত বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে একাধিক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনার তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং গৃহীত পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করতে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত।
ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকের আগে বিভিন্ন সহযোগী দলের অবস্থান ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। টিএমসি, ডিএমকে এবং কংগ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর ভূমিকার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বৈঠক বিরোধী ঐক্য ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সহযোগী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে।








