RBI নীতিগত সিদ্ধান্তের পর সেনসেক্স ও নিফটি নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ

RBI 6-27 অর্থবর্ষের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস 6.6 শতাংশে নামিয়ে আনার পর শুক্রবার সেনসেক্স ও নিফটি নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও ধাতু খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ বাজারকে প্রভাবিত করে।

শুক্রবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে সারাদিন ওঠানামার প্রবণতা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত বাজার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের নজর ছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের দিকে। RBI রেপো রেট 5.25 শতাংশে অপরিবর্তিত রাখে এবং মুদ্রানীতির অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আনে না। তা সত্ত্বেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সীমিত ছিল এবং দিনের শেষে প্রধান সূচকগুলি নেতিবাচক অঞ্চলে বন্ধ হয়।

লেনদেনের শেষে বিএসই সেনসেক্স 116.67 পয়েন্ট বা 0.16 শতাংশ কমে 74,243.34-এ বন্ধ হয়। এনএসই নিফটি 49.85 পয়েন্ট বা 0.21 শতাংশ হ্রাস পেয়ে 23,366.70-এ নেমে আসে। দিনের শুরুতে সেনসেক্স 300 পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং নিফটি 23,500 স্তর অতিক্রম করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় বাজার তার প্রাথমিক অগ্রগতি হারিয়ে ফেলে এবং নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে।

বাজারে পতনের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ও ধাতু খাতের শেয়ারগুলিতে বিক্রির চাপ প্রধান ভূমিকা পালন করে। দিনের শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারের মধ্যে ছিল হিন্দালকো ইন্ডাস্ট্রিজ, উইপ্রো, ট্রেন্ট, কোল ইন্ডিয়া এবং টিসিএস। এই সংস্থাগুলির শেয়ারে দুর্বলতার প্রভাব সামগ্রিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, আদানি এন্টারপ্রাইজেস, আদানি পোর্টস, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, বাজাজ ফাইন্যান্স এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এই শেয়ারগুলির বৃদ্ধি বাজারের পতনকে কিছুটা সীমিত রাখতে সহায়তা করে।

RBI নীতিগত সিদ্ধান্তের পর সেনসেক্স ও নিফটি নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ

বাজারের প্রাথমিক উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বুকিংয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বাজারে ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকাকালীন বিক্রির চাপ বাড়তে শুরু করে, যার ফলে দিনের শুরুতে অর্জিত লাভ সম্পূর্ণ মুছে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সূচকগুলি নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়।

RBI 2026-27 অর্থবর্ষের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস 4.6 শতাংশ থেকে বাড়িয়ে 5.1 শতাংশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বৈশ্বিক পর্যায়ে জ্বালানি মূল্যের বৃদ্ধি জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম প্রায় 7.4 শতাংশ এবং ডিজেলের দাম প্রায় 8.4 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যস্ফীতির উচ্চতর পূর্বাভাস বাজারে সতর্কতার মনোভাব তৈরি করে।

একই সঙ্গে RBI ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। 2026-27 অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার 6.6 শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী 6.9 শতাংশ পূর্বাভাসের তুলনায় কম। এটি আগের অর্থবর্ষের আনুমানিক 7.6 শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায়ও নিম্ন। প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমে যাওয়া বাজারের মনোভাবে প্রভাব ফেলে এবং সূচকগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

RBI-এর নীতিগত সিদ্ধান্তের পর বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশা থাকলেও মূল্যস্ফীতি এবং প্রবৃদ্ধি সম্পর্কিত সংশোধিত পূর্বাভাস বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রাখে। এর ফলে কেনাকাটার তুলনায় বিক্রির চাপ বাজারে বেশি প্রাধান্য পায়।

 

Leave a comment