তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) তাদের সংগঠনে বৃহৎ পরিসরের রদবদলের ঘোষণা করেছে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রবীণ নেতা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে এটিকে টিএমসির অভ্যন্তরে কৌশলগত পুনর্গঠন এবং আসন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টিএমসি তাদের জাতীয় সাংগঠনিক কাঠামোতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে। প্রবীণ নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা এখন দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং জাতীয় স্তরে দলের পরিচালন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবেন।
সূত্রের দাবি, সংগঠনকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার উদ্দেশ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে আসন্ন নির্বাচনে দলের অবস্থান আরও মজবুত করা যায়।
রাজ্য স্তরেও একাধিক নতুন পদাধিকারী নিয়োগ করা হয়েছে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে প্রদেশ সভাপতি করার পাশাপাশি সাজিদা আহমেদ এবং নৈনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক প্রবীণ নেতাকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের লক্ষ্য রাজ্য সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করা।
![]()
বর্তমান প্রদেশ সভাপতি সুব্রত বক্সির অসুস্থতার কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলের নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি একটি অস্থায়ী হলেও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত, যাতে সাংগঠনিক কাজে কোনও ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয়।
টিএমসি তাদের মহিলা ও যুব সংগঠনেও নতুন দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে। সায়নী ঘোষ যুব তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্বে বহাল থাকছেন, আর মালা রায়কে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের নতুন সভাপতি করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব এখন প্রিয়াঙ্কা অধিকারীর হাতে থাকবে। এই পরিবর্তনগুলোকে সংগঠনে যুব ও মহিলা নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দল তাদের মিডিয়া ও যোগাযোগ কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন নিয়োগও করেছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও'ব্রায়েনকে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য স্তরে কুণাল ঘোষ দলের সরকারি মুখপাত্র হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
এই বৈঠক এমন সময় অনুষ্ঠিত হয়, যখন দলের অভ্যন্তরে কথিত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অসন্তোষের খবর সামনে আসছিল। কলকাতায় অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একাধিক প্রবীণ বিধায়ক ও সাংসদ উপস্থিত ছিলেন এবং সাংগঠনিক ঐক্য ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
তবে দলের নেতৃত্ব এই দাবিগুলি খারিজ করে জানিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিরোধী রাজনীতির কার্যকর মোকাবিলার লক্ষ্যেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।








