১৭ ও ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য সফরের আগে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পুরনো আদি-নব্য কোন্দল। প্রশ্ন একটাই—মোদির মঞ্চে কি ফের দেখা যাবে দিলীপ ঘোষকে? অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠকের পর থেকে যেভাবে দিলীপের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বেড়েছে, তাতে এই সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
আদি শিবিরের দাবি: দিলীপ ছাড়া মঞ্চ অসম্পূর্ণ
বঙ্গ বিজেপির ‘আদি’ শিবিরের মতে, দলের সবচেয়ে সফল রাজ্য সভাপতি হিসেবে দিলীপ ঘোষের অবদান অস্বীকার করা যায় না। শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁকে রাখলে সংগঠনের পুরনো কর্মীদের মনোবল বাড়বে বলেই মত এই শিবিরের।
বিরোধী শিবিরের আপত্তি
তবে দিলীপ ঘোষকে ফের সামনে আনা নিয়ে আপত্তি তুলেছে দলেরই একটি প্রভাবশালী অংশ। তাঁদের আশঙ্কা, এতে নেতৃত্বের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তবু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তার পর এই আপত্তি কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়েই প্রশ্ন।
অমিত শাহর বার্তা ও কেন্দ্রীয় চাপ
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিলীপ ঘোষকে পুরোদমে মাঠে নামানোর নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব ও সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা সুনীল বনশলও চাইছেন দিলীপকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে।
মোদির সফর ও সম্ভাব্য মঞ্চ ভাগাভাগি
আগামী ১৭ জানুয়ারি মালদহ এবং ১৮ জানুয়ারি হুগলির সিঙ্গুরে ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’-য় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন মোদির সভার মঞ্চে দেখা যায়নি দিলীপকে। এবার সেই সমীকরণ বদলাতেই জোর আলোচনা চলছে।
ফের সক্রিয় দিলীপ, বাড়ছে ভিড়
ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ হোক বা নিউটাউনের বাসভবন—দিলীপ ঘোষকে ঘিরে ফের বাড়ছে ভিড়। অনুগামীদের আনাগোনা, ফোন-মেসেজের সংখ্যা—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজনৈতিক ভাবে ফের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলা সফর ঘিরে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একই মঞ্চে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে রাখার দাবি তুলেছে দলের ‘আদি’ শিবির। যদিও এই দাবিতে আপত্তি তুলছে বিরোধী গোষ্ঠী। তবে অমিত শাহর সাম্প্রতিক বার্তার পর দিলীপের ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।










