মুরলীধরে ‘ভিটেহারা’ অধ্যায় শেষ? সল্টলেকে ঘর পেলেন দিলীপ ঘোষ, শাহী সমীকরণে বাড়ছে গুরুত্ব

মুরলীধরে ‘ভিটেহারা’ অধ্যায় শেষ? সল্টলেকে ঘর পেলেন দিলীপ ঘোষ, শাহী সমীকরণে বাড়ছে গুরুত্ব

সময় বদলেছে, বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণও। একসময় যাঁকে রাজ্য বিজেপির সংগঠনের কেন্দ্রবিন্দু বলা হত, সেই দিলীপ ঘোষই দু’বছর আগে মুরলীধর সেন লেনের দলীয় কার্যালয় থেকে কার্যত ‘ভিটেহারা’ হয়েছিলেন। এবার সেই অধ্যায়ের ইতি টেনে সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দপ্তরে নিজের ঘর পেলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। শাহী বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে যে গভীর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

শাহী বৈঠকের পরই বদল হাওয়া

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর বিজেপির অন্দরে শুরু হয় আত্মসমালোচনা। দিলীপ ঘোষকে দূরে সরিয়ে রাখার ফল যে সুখকর হয়নি, তা বুঝে যান শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই প্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিলীপের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকের পরই সল্টলেক কার্যালয়ে ঘর বরাদ্দ—এই ঘটনাকে দিলীপের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রথম ধাপ বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

          দিলীপের ক্যারিশ্মা এখনও বড় ফ্যাক্টর

দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক শক্তি মূলত তাঁর সংগঠন দক্ষতা ও মাঠের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে। একসময় তাঁর নেতৃত্বেই রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার হয়েছিল। দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকায় তাঁর অনুগামীরাও খানিকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। তবে দিলীপ ফের সক্রিয় হতেই সেই কর্মীরা আবার মাঠে নামবেন—এই আত্মবিশ্বাস রয়েছে দলের অন্দরে।

কোন দায়িত্ব পেতে পারেন দিলীপ?

রাজ্যে বিজেপির পাঁচটি সাংগঠনিক জোনের একটির দায়িত্ব দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হতে পারে—এমন জল্পনা শোনা গেলেও তা নিয়ে দলের অন্দরে দ্বিধা রয়েছে। দীর্ঘদিন রাজ্য সভাপতি থাকা দিলীপকে যদি শুধুমাত্র একটি জোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়, তাহলে তাঁর অনুগামীদের মনোবল ভাঙতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে রাজ্য কমিটিতে বড় ও প্রভাবশালী দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

ছাব্বিশের প্রচারে দিলীপকে সামনে রাখার ছক

শুধু পদ দেওয়া নয়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে প্রচারের পরিকল্পনা করছে বিজেপি। দীর্ঘদিন মোদি-শাহের সভামঞ্চে অনুপস্থিত থাকা দিলীপকে ফের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে। কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তাঁর আক্রমণাত্মক ভাষা ও স্পষ্ট বার্তা যে বিজেপির কাছে বড় অস্ত্র হতে পারে, তা মানছে দল।

দু’বছর আগে মুরলীধর সেন লেনের বিজেপি কার্যালয় থেকে কার্যত ঘরছাড়া হওয়া দিলীপ ঘোষ এবার সল্টলেকের রাজ্য দপ্তরে নিজের ঘর পেলেন। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ছাব্বিশের আগে বিজেপির সংগঠনে দিলীপের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

 

Leave a comment