ট্রাম্পের দাবি চীন হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে সহায়তায় প্রস্তুত ইরানের নতুন নজরদারি নীতি কার্যকর

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে সহায়তা করতে প্রস্তুত। একই সময়ে ইরান জাহাজ চলাচলে নতুন নজরদারি নীতি কার্যকর করেছে এবং BRICS দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নীতির সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যে দাবি করেছেন যে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এই বক্তব্যের পর ইরান, চীন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজার এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

এক সাক্ষাৎকারে Donald Trump বলেন, Xi Jinping ইঙ্গিত দিয়েছেন যে প্রয়োজন হলে চীন সহায়তা করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের দাবি, চীন বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল আমদানি করে এবং সে কারণে হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতার সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি যুক্ত। তিনি বলেন, এই কৌশলগত জলপথ খোলা ও নিরাপদ রাখা চীনের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রয়োজন নেই, কারণ আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো এই নির্ভরতা সামাল দিতে সক্ষম।

এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে ইরানের নজরদারি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

ইরান বলেছে, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছে।

একই সঙ্গে ইরান BRICS দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করার এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গুজরাটের মালবাহী জাহাজ ‘হাজি আলি’ ওমান উপকূলের কাছে সন্দেহজনক হামলার মুখে ডুবে গেছে। জাহাজটির ১৪ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নজরদারিতে একাধিক চীনা জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে চীন-ইরান কৌশলগত সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi বলেছেন, যেসব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ট্রাম্পের দাবি চীন হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে সহায়তায় প্রস্তুত ইরানের নতুন নজরদারি নীতি কার্যকর

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত BRICS বৈঠকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমালোচনার আহ্বান জানায়। ইরান অভিযোগ করেছে, পশ্চিমা দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের রুট পরিবর্তন করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক শিপিং কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে।

আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হুমকি ও সামরিক চাপ দিয়ে কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান বহু বছর ধরে এ ধরনের চাপের মুখোমুখি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা মোকাবিলা করবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো দেশ সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার জবাব আগের মতোই দেওয়া হবে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, অঞ্চলে স্থিতিশীলতা কেবল সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব, যুদ্ধ বা হুমকির মাধ্যমে নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক কার্যকলাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক কার্যকলাপ ও অস্ত্র সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ তথ্য রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

তিনি পুনরায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের “অত্যধিক প্রয়োজন” নেই, তবে চীন, ভারত এবং অন্যান্য এশীয় দেশগুলো এই পথের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের বাধা বৈশ্বিক তেলের দামে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি নন-অ্যাগ্রেশন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। প্রস্তাবটি ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি চুক্তির আদলে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো অঞ্চলে একটি স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো গঠন করা, যেখানে দেশগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ দেশ এতে যুক্ত হয় এবং ইসরাইল এতে অংশ নেয় কি না তার ওপর।

 

Leave a comment