মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে জানিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি এবং আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, এই অভিযান এক মাস আগে শুরু হয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।
ট্রাম্পের দাবি, গত চার সপ্তাহে মার্কিন সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ণায়ক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সাফল্য আগে খুব কমই দেখা গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আঘাত হানতে পারে। তিনি জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের নির্ধারিত সব লক্ষ্য পূরণের জন্য পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
![]()
ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বৃহৎ পরিসরে হামলা চালাবে। তিনি বলেন, ইরানকে পিছিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান সমঝোতায় না এলে যুক্তরাষ্ট্র তার পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিতে ব্যাপক হামলা চালাতে পারে এবং এই ধরনের হামলা একাধিক স্থানে একযোগে পরিচালিত হতে পারে, যার ফলে ইরানের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তার বিমান বাহিনীও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তিনি জানান, ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা আর জীবিত নেই এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড ব্যবস্থাও ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
সম্ভাব্য ক্ষমতার পরিবর্তন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কখনোই শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ছিল না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে সেখানে নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।









