১০ বছরের আগেই ঋতুস্রাব! কন্যাসন্তানের বয়ঃসন্ধি কেন এগিয়ে আসছে? এই ৬ কারণে বাড়ছে ঝুঁকি, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

কন্যাসন্তানের বয়ঃসন্ধি কি সময়ের আগেই শুরু হচ্ছে? অতিরিক্ত ওজন, স্ক্রিন টাইম, প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ ৬টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এবং বাবা-মায়েদের করণীয় জানুন এই প্রতিবেদনে।

এক সময় ১১-১৩ বছর বয়সকে কন্যাদের বয়ঃসন্ধির স্বাভাবিক সময় হিসেবে ধরা হলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই ১০ বছরের আগেই দেখা যাচ্ছে ঋতুস্রাব ও অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনের লক্ষণ। চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র জিনগত কারণ নয়, আধুনিক জীবনযাপন এবং পরিবেশগত নানা উপাদানও এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী। ফলে বাবা-মায়েদের সচেতনতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অতিরিক্ত ওজন বাড়াচ্ছে আগাম বয়ঃসন্ধির সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বাড়ার সঙ্গে আগাম বয়ঃসন্ধির একটি সম্পর্ক রয়েছে। শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমলে হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেলে মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ স্বাভাবিক সময়ের আগেই প্রকাশ পেতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

স্ক্রিন টাইমের বাড়াবাড়ি তৈরি করছে নতুন সমস্যা

মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশনের সামনে দীর্ঘ সময় কাটানো এখন শিশুদের নিত্যসঙ্গী। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয় এবং মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বয়ঃসন্ধির সময়কালেও।

শরীরচর্চার অভাবেও বাড়ছে ঝুঁকি

আগের মতো মাঠে খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রম এখন অনেকটাই কমেছে। ফলে শিশুদের মধ্যে অলস জীবনযাত্রার প্রবণতা বাড়ছে। নিয়মিত শরীরচর্চা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সেই অভাব বয়ঃসন্ধির সময় এগিয়ে আসার একটি কারণ হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিনও হতে পারে কারণ

অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন থাকলে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হতে পারে। এর ফলে শরীরের হরমোনগত পরিবর্তনও দ্রুত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্লাস্টিক ও প্রসাধনীর রাসায়নিক নিয়ে সতর্কতা

প্রতিদিনের জীবনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, কসমেটিকস, সুগন্ধি কিংবা হেয়ার কেয়ার পণ্যে থাকা কিছু রাসায়নিক পদার্থ শরীরে হরমোনের মতো আচরণ করতে পারে। দীর্ঘদিন এসবের অতিরিক্ত সংস্পর্শে থাকলে শিশুদের স্বাভাবিক হরমোন চক্রে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি

ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত খাবার এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত সয়া সাপ্লিমেন্ট শিশুদের শরীরে বিভিন্ন হরমোনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবারের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। পরিবর্তে তাজা ও পুষ্টিকর খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বাবা-মায়েরা কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্যাশিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিয়মিত খেলাধুলা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক দ্রুত শারীরিক পরিবর্তন বা বয়ঃসন্ধির লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, স্ক্রিন টাইম, প্রক্রিয়াজাত খাবার, রাসায়নিকের সংস্পর্শসহ একাধিক কারণ এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী হতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a comment