মকর সংক্রান্তির দিন মানেই মোয়াইল গ্রামে বিশেষ উৎসবের আবহ। পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী–২ ব্লকের কালেখাতলা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রামে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয় পৌষলক্ষ্মী পুজো। ধর্মীয় আচার, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উৎসব আজ গ্রামবাসীর সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
গ্রামজুড়ে উৎসবের রঙ
পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগেই মোয়াইল গ্রামে শুরু হয় প্রস্তুতি। গ্রামজুড়ে বসে মেলা, দোকানে দোকানে ভিড়, শিশুদের কোলাহল ও মানুষের হাসি-আনন্দে অন্যরকম ছবি ধরা পড়ে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, আশপাশের এলাকা থেকেও বহু মানুষ এই উৎসব দেখতে ভিড় জমান।
দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ঐতিহ্য
স্থানীয়দের মতে, প্রায় তিন থেকে চার দশক ধরে চলে আসছে এই পৌষলক্ষ্মী পুজো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুজোর জাঁকজমক বেড়েছে, বেড়েছে মানুষের অংশগ্রহণও। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পুজো গ্রামবাসীর আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
আলোকসজ্জা ও মণ্ডপে প্রতিযোগিতার ছোঁয়া
পুজো উপলক্ষে বিভিন্ন ক্লাব ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে দেখা যায় সুস্থ প্রতিযোগিতা। প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপসজ্জায় একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বর্তমানে লক্ষাধিক টাকা বাজেটের এই পুজো টানা তিন থেকে চার দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মিলনমেলা
সন্ধ্যা নামলেই আলোয় ঝলমল করে ওঠে গোটা গ্রাম। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত ও নানা আয়োজন। পুজোর কয়েকটি দিন মোয়াইল গ্রাম যেন এক বড় মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পৌষবুড়ি থেকে পৌষলক্ষ্মী—ইতিহাসের পথচলা
গ্রামবাসীদের কথায়, একসময় এই গ্রামে পৌষবুড়ির পুজোর প্রচলন ছিল। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পৌষ মাসে লক্ষ্মীপুজোর গুরুত্ব বাড়তে থাকে। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই আজও নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে লক্ষ্মী-নারায়ণের আরাধনা করা হয়।
মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে পূর্ব বর্ধমানের মোয়াইল গ্রামে ধুমধাম করে পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী পৌষলক্ষ্মী পুজো। মেলা, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কয়েকদিনের জন্য উৎসবমুখর হয়ে উঠল গোটা এলাকা।









