শীতের বাগানে চন্দ্রমল্লিকার রঙের ছোঁয়া আনতে চান? জানুন সঠিক যত্নের সহজ কৌশল

শীতের বাগানে চন্দ্রমল্লিকার রঙের ছোঁয়া আনতে চান? জানুন সঠিক যত্নের সহজ কৌশল

শীতের বাগান মানেই রঙিন ফুলের সমাহার, আর সেই তালিকায় চন্দ্রমল্লিকার স্থান একেবারে প্রথম সারিতে। অনেকেই শীতের শুরুতেই ফুল-সহ চন্দ্রমল্লিকা গাছ কিনে আনেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ফুল ঝরে যায়, নতুন কুঁড়ি আসে না, পাতাগুলোও হয়ে পড়ে নিষ্প্রাণ। নিয়ম করে জল ও সার দিলেও গাছ ভালো না থাকলে বুঝতে হবে, যত্নের পদ্ধতিতে কোথাও ভুল হচ্ছে।

সঠিক টব ও মাটি নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি

চন্দ্রমল্লিকা গাছের জন্য ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি গভীর টব সবচেয়ে উপযুক্ত। চারা লাগানোর সময় মাটির সঙ্গে ভালোভাবে পচানো গোবর সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে নিতে হবে। এই গাছের গোড়ায় জল জমে থাকলে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দোআঁশ বা বেলে মাটি ব্যবহার করাই শ্রেয়।

আগাছা পরিষ্কার ও পাতাছাঁটাই না করলে ক্ষতি

টবের গোড়ায় আগাছা জমলে গাছের পুষ্টি কমে যায়। তাই নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা জরুরি। পাশাপাশি গাছের একেবারে নীচের দিকের শুকনো ও দুর্বল পাতাগুলো কেটে ফেলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একবার গাছের গোড়ার মাটি হালকা করে খুঁড়ে দিলে আলো, হাওয়া ও জল সহজে প্রবেশ করে।

বেশি ও বড় ফুল পেতে সঠিক ছাঁটাই জরুরি

চন্দ্রমল্লিকা গাছে ফুলের সংখ্যা ও আকার অনেকটাই নির্ভর করে ছাঁটাইয়ের উপর। বড় ফুল পেতে চাইলে গাছ মাঝারি উচ্চতায় পৌঁছনোর পর উপরের একটি কুঁড়ি রেখে পাশের ডাল ও অতিরিক্ত কুঁড়ি ছেঁটে দিতে হবে। আর একসঙ্গে অনেক ফুল পেতে চাইলে গাছের অগ্রভাগ কেটে ঝোপালো আকার দিতে হবে।

সারের সঠিক ব্যবহারেই লুকিয়ে সাফল্যের চাবিকাঠি

গাছ বেড়ে ওঠার সময় ১৫ দিন থেকে এক মাস অন্তর জৈব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। পচানো সর্ষের খোল বা ভার্মি কম্পোস্ট চন্দ্রমল্লিকার জন্য খুবই উপকারী। তবে মাটিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন থাকলে কাণ্ড মোটা হলেও ফুল আসে না। সে ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণ চুনের জল ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিয়মিত জল ও সার দেওয়ার পরেও যদি চন্দ্রমল্লিকা গাছ নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে এবং নতুন কুঁড়ি না আসে, তবে যত্নের পদ্ধতিতেই রয়েছে গলদ। সঠিক টব, মাটি, ছাঁটাই ও সার প্রয়োগের নিয়ম জানলে শীতের বাগান ভরে উঠবে রঙিন চন্দ্রমল্লিকায়।

Leave a comment