East Bardhaman News: কনকনে ঠান্ডায় মাঠে ধান কুড়িয়ে জীবনধারণ, এক মুঠো ভাতের লড়াইয়ে শেষ ভরসাও কাড়ছে যন্ত্রচাষ

East Bardhaman News: কনকনে ঠান্ডায় মাঠে ধান কুড়িয়ে জীবনধারণ, এক মুঠো ভাতের লড়াইয়ে শেষ ভরসাও কাড়ছে যন্ত্রচাষ

কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—সবকিছুকে উপেক্ষা করেই পূর্ব বর্ধমানের মাঠে নামছেন বহু দরিদ্র মানুষ। একমুঠো ভাত জোগাড় করতে দিনের পর দিন তাঁরা মাঠে পড়ে থাকা ধানের শীষ কুড়িয়ে চলেছেন। কিন্তু যন্ত্রে ধান কাটার দাপটে সেই জীবনসংগ্রাম আজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

শীতে কুঁড়েঘরই ঘর, খোলা মাঠেই রাত

অগ্রহায়ণ পেরোলেই কেতুগ্রামের বিস্তীর্ণ ধানখেত ফাঁকা হয়ে যায়। সেই মাঠেই খড়, ত্রিপল আর বাঁশ জুড়ে অস্থায়ী কুঁড়েঘর বানিয়ে থাকছেন ভিন জেলা থেকে আসা পরিবারগুলি। রাত নামলেই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর কুয়াশার সঙ্গে লড়াই শুরু হয় তাঁদের।

ধানের শীষ কুড়িয়েই রুজি-রোজগার

ধান কাটা শেষ হওয়ার পর জমিতে পড়ে থাকা শীষ কুড়িয়ে সেখান থেকে ধান ঝাড়েন তাঁরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে ঘুরে যা জোটে, সেটাই সংসারের একমাত্র ভরসা। সারাদিনের পরিশ্রমে গড়ে আধ বস্তা ধান জোগাড় হয় বলেই জানাচ্ছেন শ্রমজীবীরা।

ভিন জেলা থেকে আসা জীবনের খোঁজে

নদীয়া জেলার করিমপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে কেতুগ্রামে এসেছেন নির্মল রায়। তাঁর কথায়,

“কয়েক দিনে পাঁচ-ছ’ বস্তা ধান হলে অন্য জায়গায় চলে যাই। না হলে খাওয়া জোটে না।”

এভাবেই পরিবার নিয়ে এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে ঘুরে বেড়ান তাঁরা।

শীষ কুড়িয়েই মেয়েদের বিয়ে

খড়ের কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে সোহাগী দেবী বলেন,

তাঁদের মতো বহু পরিবারের জীবনের গল্পই ধানের শীষের সঙ্গে জড়িয়ে।

মেশিনে ধান কাটা, কমছে সুযোগ

স্থানীয় আদিবাসী পরিবার ঝোড়ো হেমব্রম, বিমল পাহাড়িয়া ও শঙ্কর পাহাড়িয়াদের অভিযোগ,আগে হাতে ধান কাটায় অনেক শীষ পড়ে থাকত। এখন মেশিনে কাটার ফলে জমিতে প্রায় কিছুই পড়ে থাকে না। ফলে ধান কুড়িয়ে রোজগারের সুযোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

আয় অল্প, কষ্ট সীমাহীন

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক বস্তা ধানের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। দশ দিনে সাত-আট বস্তা ধান জোটালে মরশুমে বড়জোর ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হয়। অথচ সেই আয়ের জন্যই শীতের রাতে খোলা মাঠে জীবন বাজি রাখতে হচ্ছে তাঁদের।

পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের শিবলুন এলাকায় শীতের রাতে খোলা মাঠে খড়ের কুঁড়েঘরে দিন কাটাচ্ছেন ভিন জেলা থেকে আসা দরিদ্র পরিবারগুলি। মাঠে পড়ে থাকা ধানের শীষ কুড়িয়েই তাঁদের দিনযাপন। কিন্তু আধুনিক মেশিনে ধান কাটার ফলে সেই শেষ ভরসাটুকুও ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

Leave a comment