বাড়িতে পিঠে বানানোর ঝক্কি নেই! দোকানেই মিলছে পৌষের স্বাদ, পিঠেতে মেতেছে পূর্ব বর্ধমান

বাড়িতে পিঠে বানানোর ঝক্কি নেই! দোকানেই মিলছে পৌষের স্বাদ, পিঠেতে মেতেছে পূর্ব বর্ধমান

ঠান্ডা হাওয়া, আকাশজুড়ে ঘুড়ির লড়াই আর সঙ্গে গরম গরম পিঠে—এই নিয়েই বাঙালির পৌষ সংক্রান্তি। কিন্তু বদলে যাওয়া সময়ে বাড়িতে পিঠে বানানো অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এগিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানগুলি, যেখানে দোকানের কাউন্টারেই মিলছে পৌষের আসল স্বাদ।

পৌষ মানেই বর্ধমানের নস্টালজিয়া

পৌষ সংক্রান্তি এলেই বর্ধমান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক আলাদা উৎসবের রেশ। ঘরে ঘরে নবান্নের আমেজ, নতুন ধানের চাল আর নলেন গুড় দিয়ে তৈরি পিঠে—এই ঐতিহ্য আজও বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে।

সময়ের অভাবে হারাচ্ছিল পিঠের স্বাদ

বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই আর পিঠে বানানোর সময় পান না। আবার নবপ্রজন্মের অনেকের কাছেই পিঠে বানানোর পদ্ধতি অজানা। ফলে ইচ্ছে থাকলেও বহু মানুষ পৌষের পিঠে থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

দোকানেই মিলছে ঘরোয়া পিঠে

এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে বর্ধমানের একাধিক মিষ্টির দোকান এবার পিঠে বিক্রি শুরু করেছে। শহরের জনপ্রিয় মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলিতে রসগোল্লা বা সন্দেশের পাশাপাশি থরে থরে সাজানো থাকছে ভাপা পিঠে, পাটিসাপটা, দুধ পুলি, ভাজা পিঠে সহ প্রায় ৮-১০ রকমের পিঠে।

কী বলছেন দোকান মালিক

এক মিষ্টির দোকানের মালিক জানান, “অনেক ক্রেতাই পিঠের খোঁজ করছিলেন। সেই চাহিদা মেটাতেই এবছর নানা ধরনের পিঠে বানানো হয়েছে। কিছু পিঠে দোকানেই খাওয়ার জন্য হলেও ভাজা পিঠে পার্সেল করে বর্ধমানের বাইরেও নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।”

উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ

শুধু সংক্রান্তির দিন নয়, তার পরেও কয়েকদিন ধরে এই পিঠে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। ফলে ঘুড়ির মেলা, পরিবার-বন্ধুদের আড্ডা—সবকিছুর সঙ্গেই মিলছে পৌষের ঐতিহ্যবাহী স্বাদ।

পৌষ সংক্রান্তি মানেই বর্ধমানবাসীর কাছে পিঠে-পুলি আর নলেন গুড়ের নস্টালজিক উৎসব। তবে কর্মব্যস্ত জীবনে বাড়িতে পিঠে বানানোর সময় বা সুযোগ অনেকেরই নেই। সেই অভাব পূরণ করতেই এবার শহরের মিষ্টির দোকানেই মিলছে নানা রকম ঐতিহ্যবাহী পিঠে। স্বাদে-গন্ধে পৌষের আমেজে ভরল বর্ধমান।

Leave a comment