ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে রাজ্য–কেন্দ্র সংঘাত তীব্রতর। নির্বাচন কমিশনের পাঁচ দফা নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় সরাসরি প্রশ্নের মুখে রাজ্য প্রশাসন। দিল্লিতে বৈঠকে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে কঠোর বার্তা দিয়েছে কমিশন—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এফআইআর না হলে কড়া পদক্ষেপ।

‘ভূতুড়ে ভোটার’ ইস্যুতে এফআইআর না হওয়ায় অসন্তোষ
গত অগস্টে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব ও পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে ‘ভূতুড়ে ভোটার’ তালিকাভুক্তির অভিযোগ ওঠে। তাঁদের সাসপেন্ড করা হলেও এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের হয়নি বলে কমিশনের অভিযোগ। এই বিষয়েই রাজ্য সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছে Election Commission of India।সূত্রের দাবি, শুক্রবার দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে মুখ্যসচিব Nandini Chakraborty-কে জানানো হয়েছে—মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে এফআইআর করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আইন–শৃঙ্খলা নিয়ে কমিশনের উদ্বেগ
কমিশনের বক্তব্য, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) চলাকালীন রাজ্যে আইন–শৃঙ্খলার প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা না থাকায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে আইন–শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার আশ্বাসও চাওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবের কাছে।
বিডিও সাসপেনশন ইস্যুতেও চাপ
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও সুমিত্র প্রতীম প্রধান কমিশনের অনুমতি ছাড়াই ১১ জন অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাঁকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করে কমিশন। সেই নির্দেশও এখনও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। কমিশন জানিয়েছে, এই নির্দেশও অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

সিইও-র সতর্কবার্তা: অযোগ্য ভোটার থাকলে মাশুল
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দায়িত্ব ইআরও ও এইআরওদের হাতে। অযোগ্য বা অবৈধ ভোটারের নাম তালিকায় থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রায় ৫০ লক্ষ নথির আপলোড ও যাচাই প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। আপাতত ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কোন জেলায় অনুপস্থিতি বেশি?
শুনানিতে হাজির না হওয়া ভোটারের সংখ্যা উত্তর ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি—১ লক্ষ ৩৮ হাজার। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪৬ হাজার, দক্ষিণ কলকাতায় ২২ হাজার, উত্তর কলকাতায় ২ হাজার এবং কালিম্পংয়ে ৪৪০ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এই পরিসংখ্যান ঘিরেও উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলে।

ভূতুড়ে ভোটার’ ইস্যুতে সাসপেন্ড হওয়া ইআরও–এইআরওদের বিরুদ্ধে এখনও এফআইআর হয়নি—এই অভিযোগে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে Election Commission of India। মুখ্যসচিব Nandini Chakraborty-কে ডেকে পাঠিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫.৩০টার মধ্যে এফআইআর দায়ের ও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ।











