শ্রাবণে বরফে সেজে উঠল এক্তেশ্বর শিব মন্দির! মহাদেবের এমন রূপ দেখে চমকে গেলেন ভক্তরা, জানুন ইতিহাস

শ্রাবণ মাসে বাঁকুড়ার ঐতিহাসিক এক্তেশ্বর শিব মন্দিরে বরফ দিয়ে সাজানো হল শিবলিঙ্গ ও গর্ভগৃহ। মহাদেবের অভিনব শৃঙ্গার দেখতে ভক্তদের ভিড়, জানুন মন্দিরের ইতিহাস।

Ekteswar Shiva Temple: শ্রাবণ মাস মানেই শিবভক্তদের কাছে বিশেষ সময়। এই পবিত্র মাসে বাঁকুড়ার এক ঐতিহাসিক শিব মন্দিরে দেখা গেল একেবারে অন্যরকম দৃশ্য। বরফের শীতল আবরণে সেজে উঠলেন মহাদেব। গর্ভগৃহে বরফ দিয়ে শিবলিঙ্গের বিশেষ শৃঙ্গার করা হয়। আর সেই অপরূপ দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর।

বরফে মহাদেবের অভিনব শৃঙ্গার

শ্রাবণ উপলক্ষে এক্তেশ্বর শিব মন্দির কমিটির উদ্যোগে নেওয়া হয় এই বিশেষ আয়োজন। বিপুল পরিমাণ বরফ দিয়ে শিবলিঙ্গ এবং গর্ভগৃহ সাজানো হয়। বরফে ঢাকা মহাদেবের এমন অনন্য রূপ দেখে অনেক ভক্তই বিস্মিত হয়ে যান।মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ এই দিনে ভক্তদের জন্য একটি আলাদা আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করতেই বরফ দিয়ে এই সাজসজ্জার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই এই বিশেষ শৃঙ্গার দেখতে মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়।

কোথায় রয়েছে এক্তেশ্বর শিব মন্দির?

বাঁকুড়া শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন শিব মন্দির। রাঢ় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শৈব তীর্থ হিসেবে পরিচিত এক্তেশ্বর মন্দিরের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।ল্যাটেরাইট পাথর ও ইট দিয়ে নির্মিত প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতার এই পশ্চিমমুখী রেখ-দেউল স্থাপত্যশৈলীর মন্দিরটি ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। মন্দিরের দেওয়ালে খোদাই করা বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি এবং আশপাশে থাকা একাধিক শিবলিঙ্গ এই স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

মন্দির ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস ও কিংবদন্তি

এক্তেশ্বর মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। কারও মতে, মন্দিরের স্থাপত্যে জৈন স্থাপত্যশৈলীর প্রভাবের কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আবার স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দিরটির বিকাশ ঘটেছিল।‘এক্তেশ্বর’ নামের উৎপত্তি নিয়েও রয়েছে নানা কাহিনি। কথিত আছে, দুই সামন্ত রাজ্যের সীমানা সংক্রান্ত বিবাদ মেটাতেই মহাদেবের আবির্ভাব ঘটেছিল। সেই কিংবদন্তি আজও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।

শ্রাবণে বাড়ে ভক্তদের ভিড়

শিবরাত্রি, গাজন ও চৈত্র সংক্রান্তির মতো বিশেষ উৎসবে এক্তেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম হয়। তবে শ্রাবণ মাসেও এই মন্দিরে প্রতিদিন বহু পুণ্যার্থী আসেন। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে পুজো দেন।এই পরিস্থিতিতে বরফ দিয়ে মহাদেবের বিশেষ সাজ ভক্তদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়। গর্ভগৃহে বরফে সজ্জিত শিবলিঙ্গের দর্শন পেতে সারাদিনই মন্দিরে ভিড় দেখা যায়।

ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন

এক্তেশ্বর শিব মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, ইতিহাস ও স্থাপত্যের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন মন্দিরের ঐতিহ্যের সঙ্গে বরফে মহাদেবের এই অভিনব শৃঙ্গার যুক্ত হওয়ায় এবারের শ্রাবণ উৎসব পেয়েছে নতুন মাত্রা।ভক্তদের কাছে এই বিশেষ আয়োজন যেমন ছিল আকর্ষণের কেন্দ্র, তেমনই পর্যটকদের কাছেও এক্তেশ্বর মন্দিরকে নতুন করে চেনার সুযোগ তৈরি করেছে।

শ্রাবণ মাস উপলক্ষে বাঁকুড়ার ঐতিহাসিক এক্তেশ্বর শিব মন্দিরে দেখা গেল অভিনব সাজ। বিপুল পরিমাণ বরফ দিয়ে সাজানো হয়েছে শিবলিঙ্গ ও গর্ভগৃহ। মহাদেবের এই বিশেষ শৃঙ্গার দেখতে সকাল থেকেই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় জমে যায়। ইতিহাস, স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই প্রাচীন মন্দিরের বিশেষত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।

Leave a comment