Heavy Rainfall due to El Nino: আন্তর্জাতিক স্তরে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে এল নিনো বছরে ভারতের বৃষ্টিপাতের ধরন ব্যাপকভাবে পাল্টে যাচ্ছে। যেখানে শুষ্ক অঞ্চলে বৃষ্টি কমে যাচ্ছে, সেখানে ভেজা অঞ্চলে প্রতিদিনের বৃষ্টির তীব্রতা ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা কৃষক সমাজ, শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আগাম প্রস্তুতি না নিলে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

এল নিনো আসলে কী?
স্প্যানিশ ভাষায় ‘এল নিনো’র অর্থ ছোট ছেলে। এটি এক ধরনের জটিল আবহাওয়া প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব অংশের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বাণিজ্যিক বায়ু দুর্বল হয় এবং বিশ্বজুড়ে মৌসুমী পরিবর্তন দেখা দেয়। ভারতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বর্ষার উপর।

ভারতে বৃষ্টিপাতের নতুন ধারা
বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, এল নিনো বছরে শুষ্ক অঞ্চল যেমন দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টি হ্রাস পায়। তবে মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে কম দিনে হলেও তীব্র বর্ষণ দেখা দেয়। ২৫০ মিমি-র বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা এল নিনো বছরে ৪৩% পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত বহন করে।

বন্যা ও বিপর্যয়ের ঝুঁকি
এই চরম বর্ষণের ফলে আকস্মিক বন্যা, গ্রাম ভেসে যাওয়া, ঘরবাড়ি ধ্বংস ও মানুষের জীবিকা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে।

বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক পত্রিকা সায়েন্স-এ প্রকাশিত এই গবেষণা অনুযায়ী, এল নিনো যত শক্তিশালী হবে, প্রবল বৃষ্টির ঝুঁকিও তত বাড়বে। ফলে ENSO-ভিত্তিক মৌসুমী পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক পূর্বাভাস থাকলে সরকার ও কৃষকরা আগাম ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতি অনেকটাই কমাতে পারবেন।সব মিলিয়ে, এল নিনো প্রভাব ভারতের জন্য দ্বিমুখী হুমকি—একদিকে খরা, অন্যদিকে প্রবল বর্ষণের ধ্বংসযজ্ঞ। নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, আগাম সতর্কতা ও বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা না বাড়ালে মানবজীবন ও কৃষিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

এল নিনো প্রভাব: নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনো বছরে শুধু খরা নয়, বরং প্রবল বৃষ্টিপাতও বাড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে দৈনিক বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। এতে হঠাৎ বন্যা, ধ্বংস আর মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা।











