পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের এক্সিট পোল প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত

পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের এক্সিট পোল বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ৪ মে ঘোষণা করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরিতে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের এক্সিট পোল প্রকাশের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। এই অনুমানভিত্তিক ফলাফলগুলো সম্ভাব্য রাজনৈতিক চিত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল ৪ মে ঘোষণা করা হবে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এগুলোকে প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে এক্সিট পোল অনুযায়ী এইবার ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতে পারে। বিভিন্ন সমীক্ষায় ভারতীয় জনতা পার্টি এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও ক্ষমতাসীন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কিছু অনুমানে বিজেপি ১৪০-র বেশি আসন পেতে পারে বলে বলা হয়েছে, যা দলটিকে প্রথমবার রাজ্যে সরকার গঠনের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১৩০ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ উভয় অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র বলে সমীক্ষাগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। P-MARQ সমীক্ষায় বিজেপি ১৫০-১৭৫, তৃণমূল কংগ্রেস ১১৮-১৩৮ এবং অন্যান্য ২-৬ আসন পেতে পারে বলা হয়েছে। POLL DIARY-তে বিজেপি ১৪২-১৭২, তৃণমূল ৯৯-১২৭ এবং অন্যান্য ৫-৯ আসনের অনুমান করা হয়েছে। চাণক্য স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী বিজেপি ১৫০-১৬০, তৃণমূল ১৩০-১৪০ এবং অন্যান্য ৬-১০ আসন পেতে পারে। PEOPLE’S PULSE সমীক্ষায় তৃণমূল ১৭৭-১৮৭, বিজেপি ৯৫-১০০ এবং অন্যান্য ১-৪ আসনের অনুমান করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে নিজের দলের জয়ের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে বিজেপি নেতারা সরকার গঠনের দাবি করেছেন।

অসমে এক্সিট পোল ভারতীয় জনতা পার্টির প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি ৮০ থেকে ১০০ আসনের সমর্থন পেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। AXIS MY INDIA সমীক্ষায় বিজেপি ৮৮-১০০ এবং কংগ্রেস ২৪-৩৬ আসন পেতে পারে বলা হয়েছে। PEOPLE’S PULSE অনুযায়ী বিজেপি ৬৮-৭২ এবং কংগ্রেস ২২-২৬ আসন পেতে পারে। VOTE VIBE-তে বিজেপি ৯০-১০০ এবং কংগ্রেস ২৩-৩৩ আসনের অনুমান করা হয়েছে। P-MARQ-এ বিজেপি ৮২-৯৪ এবং কংগ্রেস ৩০-৪০ আসনের অনুমান করা হয়েছে। JVC সমীক্ষায় বিজেপি ৮৮-১০১ এবং কংগ্রেস ২৩-৩৩ আসন পেতে পারে বলা হয়েছে। বিরোধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ২৫ থেকে ৩৫ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ভোট শতাংশেও বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের এক্সিট পোল প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত

তামিলনাড়ুতে এক্সিট পোল একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। দ্রাবিড় মুন্নেত্র কড়গম জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কড়গম পিছিয়ে থাকতে পারে। MATRIZE অনুযায়ী ডিএমকে+ ১২২-১৩২, এআইএডিএমকে+ ৮৭-১১০, টিভিকে ১০-১২ এবং অন্যান্য ০-৬ আসন পেতে পারে। AXIS MY INDIA সমীক্ষায় টিভিকে ৯৮-১২০, ডিএমকে+ ৯২-১১০ এবং এআইএডিএমকে+ ২২-৩২ আসনের অনুমান করা হয়েছে। P-MARQ অনুযায়ী ডিএমকে+ ১২৫-১৪৫, এআইএডিএমকে+ ৬৫-৮৫, টিভিকে ১৬-২৬ এবং অন্যান্য ১-৬ আসন পেতে পারে। PEOPLE’S PULSE-এ ডিএমকে+ ১২৫-১৪৫, এআইএডিএমকে+ ৬৫-৮০, টিভিকে ১৮-২৪ এবং অন্যান্য ২-৬ আসনের অনুমান করা হয়েছে। চাণক্য স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী ডিএমকে+ ১৪৫-১৬০, এআইএডিএমকে+ ৫০-৬৫ এবং অন্যান্য ১৮-২৬ আসন পেতে পারে। এই নির্বাচনে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-র উপস্থিতিও সমীক্ষাগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে কিছু এক্সিট পোল এই দলের উল্লেখযোগ্য আসন পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছে।

কেরলে এক্সিট পোল ক্ষমতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট এগিয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট পিছিয়ে থাকতে পারে। অনুমান অনুযায়ী ইউডিএফ ৭০-এর বেশি আসন পেতে পারে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট। বিজেপির সীমিত সাফল্যের সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পুদুচেরিতে এক্সিট পোল অনুযায়ী ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স এগিয়ে রয়েছে। এই জোট ১৬ থেকে ২০ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। কংগ্রেস-ডিএমকে জোট সীমিত আসন পেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে সরকার গঠনের সম্ভাবনা কম বলে দেখানো হয়েছে।

 

Leave a comment