যুক্তরাষ্ট্র ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও স্বর্ণাক্ষরসহ সীমিত সংস্করণের পাসপোর্ট চালু করবে

যুক্তরাষ্ট্র তার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও স্বর্ণাক্ষরে স্বাক্ষরযুক্ত সীমিত সংস্করণের পাসপোর্ট চালুর পরিকল্পনা করছে, যা নতুন নকশা ও ঐতিহাসিক প্রতীকের কারণে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ সীমিত সংস্করণের পাসপোর্ট চালু করতে যাচ্ছে, যাতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ছবি এবং তার স্বর্ণাক্ষরে স্বাক্ষর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এই নতুন নকশা এই গ্রীষ্ম থেকে চালু হবে এবং এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, নতুন পাসপোর্টটি বিশেষ “কাস্টমাইজড আর্টওয়ার্ক এবং উন্নত ইমেজারি” সহ ডিজাইন করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আগের মতোই শক্তিশালী থাকবে, ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ভ্রমণ নথি হিসেবেই থাকবে।

এই সীমিত সংস্করণের পাসপোর্ট প্রথমে ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সি থেকে ইস্যু করা হবে। এখানে সরাসরি পাসপোর্ট নবায়ন করতে আসা আবেদনকারীরা ডিফল্টভাবে এই নতুন সংস্করণটি পাবেন, আর অনলাইনে আবেদনকারীরা সাধারণ পাসপোর্ট নকশাই পাবেন।

নতুন পাসপোর্টের পিছনের কভারে Declaration of Independence শিরোনামের John Trumbull-এর বিখ্যাত চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হবে, যা ১৭৭৬ সালে মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক মুহূর্তকে তুলে ধরে। এই চিত্রকর্মটি মার্কিন ইতিহাসে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনেও প্রদর্শিত রয়েছে।

বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টের সামনে ফ্রান্সিস স্কট কী-এর কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত ঐতিহাসিক চিত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মার্কিন জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাকে তুলে ধরে।

যুক্তরাষ্ট্র ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও স্বর্ণাক্ষরসহ সীমিত সংস্করণের পাসপোর্ট চালু করবে

এর আগে মার্কিন ইন্টিরিয়র ডিপার্টমেন্ট ন্যাশনাল পার্ক পাসের নতুন নকশা প্রকাশ করেছিল, যেখানে Donald Trump এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট George Washington-এর যৌথ ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এছাড়া, মার্কিন সরকারের ফাইন আর্টস কমিশন Donald Trump-এর ছবি সম্বলিত একটি স্মারক মুদ্রার অনুমোদন দিয়েছে। ফ্লোরিডায় একটি বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে “ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট” রাখার প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য এগিয়ে রয়েছে।

নতুন পাসপোর্ট নকশা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে এই উদ্যোগ নিয়ে মন্তব্য করে একে “২৫০ বছরের ঐতিহ্যের রাজনৈতিক প্রদর্শন” বলে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোতে পাসপোর্টের মতো ধারণাকে প্রায়ই ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের পাসপোর্টে বর্তমান প্রেসিডেন্টের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা সাধারণ প্রথা নয়। সাধারণত পাসপোর্টকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে রেখে জাতীয় প্রতীক, ঐতিহাসিক স্থান বা সাংস্কৃতিক চিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এতদিন এই রীতি বজায় ছিল, তবে নতুন নকশাকে এই প্রথা থেকে একটি পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

Donald Trump-এর নামে আরও কয়েকটি সরকারি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, সরকারি প্রকল্প এবং কিছু আর্থিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন মুদ্রায়ও Donald Trump-এর স্বাক্ষর অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে, যা মার্কিন ইতিহাসে একটি বিরল পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

Leave a comment