হঠাৎ আবহাওয়ার তীব্র পরিবর্তনে বিহার জুড়ে তীব্র ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। পৃথক ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া দফতর পূর্বে সতর্কতা জারি করেছিল, তবে দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তন প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে অপ্রস্তুত করে দেয়। জেহানাবাদে প্রবল ঝড়ে একটি বাড়ির ছাউনি ধসে পড়ে। সেই সময় বাড়ির বাইরে খেলছিল চারজন শিশু, যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, চারজনেরই চিকিৎসা চলছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।
রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টির প্রভাবে গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে মানুষ অন্ধকারে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছে। বহু স্থানে মাঠে দাঁড়ানো ফসল নষ্ট হয়েছে, যার ফলে কৃষকদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর রাজ্যের ১৯টি জেলায় সতর্কতা জারি করেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় একই ধরনের আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকার কথা উল্লেখ করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রশাসন খারাপ আবহাওয়ার সময় ঘরে থাকার এবং খোলা জায়গায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রবল ঝড় ও কম দৃশ্যমানতার কারণে দুটি বিমান নির্ধারিত গন্তব্য থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের অসুবিধা হয়েছে এবং একাধিক উড়ান বিলম্বিত হয়েছে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
বিভিন্ন ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছে এবং কিছু ট্রেন মাঝপথে থামিয়ে দিতে হয়েছে। রেলপথে জল জমা ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। যাত্রীদের স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শহরের রাস্তায় জল জমে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে যানজট তৈরি হয়েছে। প্রবল বাতাসে হোর্ডিং ও টিনের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। প্রশাসনের দল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ত্রাণকাজ চালাচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সব জেলাকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধার দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলিকে আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ক্রমশ বাড়ছে, যার একটি কারণ জলবায়ু পরিবর্তন হতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোলেও আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী ঝুঁকি এখনও রয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।











