Farmers Digital ID: দেশের কৃষকদের জন্য বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। এবার পঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডও যুক্ত হল কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয় প্রকল্পে। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ নীধি প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই ১৬টি রাজ্যের সাড়ে সাত কোটি কৃষক পেয়েছেন ডিজিটাল আইডি কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সাহায্য, ঋণ, শস্যবিমা ও নানা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন—মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই টাকা যাবে তাঁদের ব্যাঙ্কে।

কৃষকদের ডিজিটাল আইডি প্রকল্পে আরও তিন রাজ্য
নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, পঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড এবার কেন্দ্রীয় কৃষক ডিজিটাল আইডি প্রকল্পে নাম লেখাচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিন রাজ্যেই শুরু হয়েছে কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র তৈরির কাজ। কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের লক্ষ্য—দেশের প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া এই বিশেষ পরিচয়পত্র, যা একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাহায্য করবে।
সাড়ে সাত কোটি কৃষক ইতিমধ্যেই পেয়েছেন আইডি
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৬টি রাজ্যের প্রায় ৭.৫ কোটি কৃষক ডিজিটাল আইডি কার্ড পেয়েছেন। আগামী কয়েক মাসে আরও আড়াই কোটি কৃষক এই তালিকায় যুক্ত হবেন বলে আশা কেন্দ্রের। এই পরিচয়পত্র কৃষকদের সরকারি সাহায্য পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করেছে বলে দাবি আধিকারিকদের।
মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি কৃষকের ব্যাঙ্কে অর্থ
এই ডিজিটাল পরিচয়ের অন্যতম বড় সুবিধা হল—প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে। এতে কোনও মধ্যস্থতাকারী বা দালালের ভূমিকা থাকবে না। পাশাপাশি কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) ও শস্যবিমা প্রকল্পের আওতায়ও এই ডিজিটাল পরিচয় কাজে লাগবে।

রাজ্যভিত্তিক কার্ড বিলির অগ্রগতি
কেন্দ্রীয় রিপোর্ট বলছে, উত্তর প্রদেশে দেড় কোটি, মহারাষ্ট্রে ১ কোটি, এবং মধ্য প্রদেশে ৯০ লক্ষ কৃষক ইতিমধ্যেই পেয়েছেন ডিজিটাল পরিচয়পত্র। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে পঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড। কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানান—“ঋণ, বিমা ও ভর্তুকির সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দিতে এই ডিজিটাল আইডি অপরিহার্য ভূমিকা রাখছে।”
কৃষি ডেটাবেস তৈরির উদ্যোগ
এই প্রকল্পের অন্যতম ভিত্তি হল দেশের কৃষকদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেস। এতে প্রতিটি গ্রামের নাম, চাষযোগ্য জমির পরিমাণ, ফসলের ধরনসহ বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ঋণ, বিমা ও সহায়তা বিতরণের কাজ হবে।
কেন্দ্রীয় বাজেট ও বরাদ্দ
চলতি অর্থবর্ষে কেন্দ্র সরকার কৃষকদের রেজিস্ট্রেশন ও আইনি সহায়তার জন্য ৪,০০০ কোটি টাকা, এবং ফসল সমীক্ষা কার্যক্রমের জন্য ২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সরকারের দাবি, এই বিনিয়োগ কৃষি ক্ষেত্রকে তথ্যনির্ভর ও স্বচ্ছ করে তুলবে।

কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয় প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতার নতুন অধ্যায় শুরু করছে। এতে সরাসরি উপকৃত হবেন দেশের কোটি কোটি কৃষক। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও প্রশাসনিক সহায়তা দুই-ই আরও জোরদার হবে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।











