শেয়ারে ভাটা, ফেব্রুয়ারিতে ১০ মাসের তলানিতে লগ্নি! লক্ষ্মীলাভের আশায় নজর এখন সোনা–রুপোয়

শেয়ারে ভাটা, ফেব্রুয়ারিতে ১০ মাসের তলানিতে লগ্নি! লক্ষ্মীলাভের আশায় নজর এখন সোনা–রুপোয়

ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটে ৬–৭ শতাংশ রিটার্নের যুগে কোভিড-পর্ব থেকেই অনেক বিনিয়োগকারী ঝুঁকেছিলেন শেয়ারে। স্মল, মিড ও লার্জক্যাপ— নানা সেগমেন্টে মিলেছিল মোটা লাভও। কিন্তু গত এক বছরে বাজারের গতি মন্থর। ফলে ফেব্রুয়ারিতে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নি নেমে এসেছে গত ১০ মাসের তলানিতে। এই প্রেক্ষাপটে লক্ষ্মীলাভের আশায় বিনিয়োগকারীদের নজর ঘুরেছে সোনা–রুপোর দিকে।

ইক্যুইটিতে রিটার্ন কমে ১১–১৩ শতাংশে

গত এক বছরে শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক BSE Sensex ও Nifty 50–এ রিটার্ন নেমে এসেছে ১১–১৩ শতাংশে। এক সময় যেখানে ২০ শতাংশের কাছাকাছি লাভ মিলছিল, সেখানে এখন লাভের অঙ্ক অনেকটাই সঙ্কুচিত। বিশেষত স্মল ও মিডক্যাপ সংস্থার বহু শেয়ারে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ।

সোনা–রুপোয় চমকপ্রদ উত্থান

অন্য দিকে, গত এক বছরে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ। তবে রুপো রিটার্নের নিরিখে আরও এগিয়ে— প্রায় ১৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি। মাত্র এক বছরে এমন উত্থান লগ্নিকারীদের চমকে দিয়েছে। ফলে ইক্যুইটি থেকে ঝুঁকি কমিয়ে প্রেশাস মেটালে ঝোঁক বাড়ছে।

ফেব্রুয়ারিতে প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নি ১০ মাসের সর্বনিম্নে

পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারিতে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা দালাল স্ট্রিটে কিনেছেন প্রায় ২৬,১৩০ কোটি টাকার শেয়ার— যা গত দশ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গড় লগ্নি ছিল প্রায় ৭৫,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় লগ্নি নেমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক আরোপ শুরু করতেই বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে সোনা ও রুপোর দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়। গত জানুয়ারিতে দুই ধাতুই সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছয়। যদিও ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় পরে কিছুটা সংশোধন দেখা যায়— যা নতুন করে কেনার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ইটিএফ ও মিউচুয়াল ফান্ডে সোনা–রুপোর চাহিদা

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গোল্ড ও সিলভার এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং প্রেশাস মেটাল-ভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমে বিনিয়োগ ফেব্রুয়ারিতে ইক্যুইটিকে ছাপিয়ে যেতে পারে। জানুয়ারিতেও গোল্ড ও সিলভার ইটিএফ-এ লগ্নি ইক্যুইটির তুলনায় বেশি ছিল বলে রিপোর্টে দাবি।

মিড ও স্মলক্যাপ এখনও চাপে

তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ‘ক্র্যাশ’-এর পর থেকে বাজার থিতু হলেও অধিকাংশ মিড ও স্মলক্যাপ শেয়ার আগের উচ্চতায় ফিরতে পারেনি। Nifty Midcap 150 ও Nifty Smallcap 250 সর্বকালীন উচ্চতা থেকে যথাক্রমে ১.৩ ও ১৩ শতাংশ নীচে রয়েছে। ফলে বড় ফান্ড হাউসগুলি আপাতত সোনা–রুপোকে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবেই দেখছে।

গত এক বছরে ইক্যুইটি বাজারে রিটার্ন কমে ১১–১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিপরীতে সোনা ও রুপোয় চমকপ্রদ বৃদ্ধির জেরে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা শেয়ার থেকে মুখ ঘুরিয়ে ঝুঁকছেন প্রেশাস মেটালে।

Leave a comment