একসময় টাক পড়া পুরুষদের সমস্যা হিসেবেই ধরা হত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তরুণী ও মহিলাদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে চুল পড়া ও টাকের সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ঋতুস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা।
হরমোনের গণ্ডগোলই প্রধান কারণ
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মেয়েদের টাক পড়ার মূল কারণ হল হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। কম বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া বা মাসিক অনিয়মিত হওয়া শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলেই তৈরি হয় ‘ফিমেল প্যাটার্ন বল্ডনেস’, যেখানে ধীরে ধীরে চুল পাতলা হতে শুরু করে।
DHT ও অ্যান্ড্রোজেনের প্রভাব কীভাবে কাজ করে?
শরীরে ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (DHT) নামক হরমোন চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়। যখন অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন হেয়ার ফলিকল সঙ্কুচিত হয়ে যায়। এর ফলে চুল পড়ে যায় এবং নতুন চুল গজানোর হার কমে যায়।
PCOS, থাইরয়েড ও মানসিক চাপ—বড় ঝুঁকি
শুধু ঋতুস্রাব নয়, আরও কিছু কারণও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। যেমন—
PCOS (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম)
থাইরয়েডের সমস্যা
অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা
পুষ্টির অভাব
অতিরিক্ত মানসিক চাপ
এই সব কারণ একত্রে চুল পড়ার হার বাড়িয়ে দেয় এবং টাকের সমস্যা ত্বরান্বিত করে।
মেনোপজের বয়স কমে যাওয়াও দায়ী
আগে যেখানে ৫০-এর পর মেনোপজ হত, এখন অনেক ক্ষেত্রেই ৪৫-এর কাছাকাছি শুরু হচ্ছে। এর ফলে শরীরে ইস্ট্রোজেন কমে গিয়ে অ্যান্ড্রোজেনের প্রভাব বাড়ে। এতে চুল পড়া আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
টাক পড়ার লক্ষণগুলি চিনবেন কীভাবে?
প্রাথমিক অবস্থাতেই লক্ষণগুলি চিহ্নিত করা জরুরি। যেমন—
সিঁথি ধীরে ধীরে চওড়া হয়ে যাওয়া
মাথার মাঝখান থেকে স্ক্যাল্প দেখা যাওয়া
পনিটেল পাতলা হয়ে যাওয়া
চুল আঁচড়ানোর সময় অতিরিক্ত চুল পড়া
চুল নিস্তেজ ও প্রাণহীন হয়ে পড়া
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
যদি মাসিক অনিয়মিত হয় এবং চুল পড়া বাড়তে থাকে, তাহলে দেরি না করে প্রথমে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ও গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এরপর প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চিকিৎসা করানো দরকার। ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
অল্প বয়সেই মেয়েদের চুল পড়া এখন বড় সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, PCOS ও মানসিক চাপ—এই সবই টাক পড়ার প্রধান কারণ।













