কর্ণাটকের চিক্কমাগালুরুতে রেড স্যান্ড বোয়া বিক্রির চেষ্টায় পাঁচজন গ্রেপ্তার

Karnataka Chikkamagaluru Red Sand Boa Illegal Wildlife Trade Case Five Arrested

কর্ণাটকের চিক্কমাগালুরু জেলায় বন বিভাগের সিআইডি ফরেস্ট মোবাইল স্কোয়াড রেড স্যান্ড বোয়া সাপের অবৈধ বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার হওয়া সাপটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘটনায় তদন্ত চলছে।

গোপন সূত্রের ভিত্তিতে শহরের বাজপেয়ী লেআউট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। অভিযোগ, তারা বিরল ও সংরক্ষিত প্রজাতির রেড স্যান্ড বোয়া, যা সাধারণভাবে “দুই-মাথাওয়ালা সাপ” নামে পরিচিত, বিক্রির জন্য চুক্তি করছিল। আন্তর্জাতিক অবৈধ বন্যপ্রাণী বাজারে এই সাপের মূল্য এক কোটি রুপির বেশি বলে জানানো হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আন্ধ্র প্রদেশ-এর বামসীকৃষ্ণ ও আরিফ বাশা এবং শিবমোগ্গা ও তুমকুর জেলার যতিেশ, শফি এবং আরও এক আরিফ বাশা।

কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং এই লেনদেন একটি সংগঠিত চক্রের অংশ হতে পারে।

রেড স্যান্ড বোয়া একটি সংরক্ষিত প্রজাতি, যা বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের আওতায় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। তবে পাচারকারীরা এই সাপকে ঘিরে বিভিন্ন কুসংস্কার প্রচার করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে রহস্যময় ও ঔষধি ক্ষমতার দাবি।

এই ধরনের ভ্রান্ত ধারণার কারণে অবৈধ বাজারে প্রজাতিটির চাহিদা বজায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিশ্বাসের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও তা অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যকে উৎসাহিত করছে।

কর্ণাটকের চিক্কমাগালুরুতে রেড স্যান্ড বোয়া বিক্রির চেষ্টায় পাঁচজন গ্রেপ্তার

অভিযানের সময় বন বিভাগের কর্মকর্তারা রেড স্যান্ড বোয়াটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে সাপটিকে চিকিৎসা পরীক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাণীটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে এই চক্রটি বৃহত্তর আন্তঃরাজ্য বন্যপ্রাণী পাচার নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে সাপটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর আগে এ ধরনের আরও কোনও অবৈধ লেনদেন হয়েছে কি না।

ঘটনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে ধরা, সংরক্ষণ বা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুরো পাচারচক্রকে চিহ্নিত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

 

Leave a comment