শরীরের ভার বহন করে পা—এ কথা সকলেরই জানা। কিন্তু এই পা-ই অনেক সময় শরীরের ভেতরের অজানা বিপদের ইঙ্গিত দেয়। হাঁটতে গিয়ে ব্যথা, বারবার অবশ ভাব, অকারণ ফোলা বা ত্বকের রঙ বদল—এসব লক্ষণকে হালকা ভাবে নিলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যেখানে লাঠি বা ক্রাচের উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
পা আসলে স্বাস্থ্যের আয়না
বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের পরিবর্তন শরীরের সামগ্রিক অবস্থার প্রতিফলন। রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হলে পেশি ও টিস্যু পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। ফলস্বরূপ দেখা দেয় ব্যথা, অবশভাব বা ফোলার মতো উপসর্গ। শুরুতে এগুলো তেমন গুরুতর মনে না হলেও, ধীরে ধীরে তা বড় রোগের রূপ নিতে পারে।
কী এই পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ (PAD)?
এই সমস্যাকে বলা হয় Peripheral Arterial Disease। এতে পায়ের ধমনীগুলি সরু হয়ে যায় এবং অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত ঠিকমতো পৌঁছতে পারে না। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে ক্ষত সারতে দেরি হয়, সংক্রমণ বাড়ে এবং চরম ক্ষেত্রে অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
যে ৬ লক্ষণে সতর্ক হবেন
অল্প হাঁটলেই পায়ে ব্যথা শুরু হওয়া, বিশ্রামে কমে যাওয়া।
পায়ে ঝিনঝিনে ভাব বা বারবার অবশ হয়ে যাওয়া।
পা বা গোড়ালিতে অকারণ ফোলা।
পায়ে ভারী অনুভব হওয়া।
ত্বকের রঙ ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যাওয়া।
শিরা ফুলে ওঠা বা ভ্যারিকোজ ভেইন—যা থেকে Deep Vein Thrombosis (DVT) হতে পারে।
রক্ত জমাট বেঁধে তা ফুসফুসে পৌঁছলে তৈরি হতে পারে প্রাণঘাতী Pulmonary Embolism।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, স্থূলতা, ধূমপান ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
কী পরীক্ষা জরুরি?
প্রাথমিক পর্যায়ে ভাসকুলার চেক-আপ, ডপলার টেস্ট বা অ্যাঙ্কল-ব্র্যাকিয়াল ইনডেক্স (ABI) পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যা ধরা যায়। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, ওষুধ বা প্রয়োজন হলে ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করা সম্ভব।
পায়ের সামান্য ব্যথা, অবশভাব বা রঙ বদল—এগুলোকে অবহেলা করলে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্ত সঞ্চালনের ঘাটতি থেকে শুরু করে গুরুতর ধমনী রোগের আগাম সংকেত লুকিয়ে থাকে পায়ের উপসর্গে। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা জরুরি।













