ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে এই দিনটি ভগবান গণেশের জন্মোৎসব হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশজুড়ে ভক্তরা গণপতির আরাধনা করেন এবং তাঁকে নানা ধরনের মিষ্টি ও ভোগ নিবেদন করেন। তবে গণেশ পুজোর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে রয়েছে মোদক। বিশেষ করে ২১টি মোদক নিবেদনের রীতি বহু জায়গায় প্রচলিত। এর পিছনে রয়েছে একটি চমকপ্রদ পৌরাণিক কাহিনি।

গণেশের প্রিয় ভোগ মোদক
গণেশের পুজোয় মোদককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোগ হিসেবে ধরা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, মোদক ভগবান গণেশের অত্যন্ত প্রিয়। তাই গণেশ চতুর্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণেশ আরাধনায় মোদক নিবেদন করা হয়।শুধু মোদকই নয়, ভক্তরা চাইলে বোঁদের লাড্ডু বা বেসনের লাড্ডুও গণেশকে নিবেদন করতে পারেন। তবে ২১টি মোদক নিবেদনের রীতিটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
কেন ২১টি মোদক? রয়েছে পৌরাণিক কাহিনি
একটি প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, একবার ভগবান শিব, দেবী পার্বতী এবং গণেশ ঋষি অত্রির আশ্রমে যান। সেখানে অত্রির স্ত্রী অনুসূয়া তাঁদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন।কথিত আছে, অনুসূয়া প্রথমে গণেশকে খাবার পরিবেশন করেন। তিনি জানান, গণেশের খাওয়া শেষ হলে তিনি ভগবান শিবকে খাবার পরিবেশন করবেন। কিন্তু একের পর এক খাবার খাওয়ার পরেও গণেশের ক্ষুধা কিছুতেই মিটছিল না।
মোদক খেয়েই তৃপ্ত হন গণেশ
গণেশের ক্ষুধা মেটাতে শেষ পর্যন্ত অনুসূয়া তাঁকে একটি বিশেষ মিষ্টি পরিবেশন করেন। সেটিই ছিল মোদক। মোদক খাওয়ার পর গণেশের ক্ষুধা মিটে যায় এবং তিনি তৃপ্ত হন।পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের এই তৃপ্তির সঙ্গে পরবর্তীতে ২১ সংখ্যার যোগ তৈরি হয়। কথিত আছে, এরপর ভগবান শিবের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘটনার সূত্র ধরে ২১টি মোদক নিবেদনের প্রথা প্রচলিত হয়।

দেবী পার্বতীর ইচ্ছাতেই ২১ মোদকের রীতি?
প্রচলিত কাহিনির আরেক অংশে বলা হয়, গণেশ মোদক খেয়ে তৃপ্ত হওয়ার পর ভগবান শিবও সন্তুষ্ট হন। বিষয়টি জানতে পেরে দেবী পার্বতী ইচ্ছা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে গণপতির ভক্তরা যেন তাঁকে ২১টি মোদক নিবেদন করেন।এরপর থেকেই গণেশ পুজোয় ২১টি মোদক নিবেদনের রীতি প্রচলিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। যদিও এটি একটি ধর্মীয় ও পৌরাণিক বিশ্বাস, বিভিন্ন অঞ্চলে এই রীতির ব্যাখ্যায় কিছুটা পার্থক্যও দেখা যায়।

গণেশ চতুর্থীতে ২১ মোদক নিবেদন কেন শুভ?
ভক্তদের বিশ্বাস, গণেশ হলেন বিঘ্নহর্তা—অর্থাৎ জীবনের বাধা-বিপত্তি দূরকারী দেবতা। তাই গণেশ চতুর্থীতে নিষ্ঠাভরে তাঁর পুজো করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে এবং মনস্কামনা পূর্ণ হতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।২১টি মোদক নিবেদনও সেই ভক্তিরই একটি অংশ। তবে কোনও নির্দিষ্ট ভোগ নিবেদন করলেই অর্থ বা ভাগ্য নিশ্চিতভাবে বদলে যাবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

গণেশ চতুর্থীর পুজোয় মোদক অন্যতম প্রধান ভোগ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান গণেশের উদ্দেশে ২১টি মোদক নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ। কিন্তু কেন ঠিক ২১টি মোদকই দেওয়া হয়? এর নেপথ্যে রয়েছে এক আকর্ষণীয় পৌরাণিক কাহিনি। জানুন সেই গল্প এবং গণেশ পুজোয় মোদকের গুরুত্ব।








