বারাণসীতে গঙ্গা দশহরা উপলক্ষে ঘাটজুড়ে ভক্তি, ধর্মীয় আচার এবং বিশেষ আয়োজনের মধ্যে হাজারো পুণ্যার্থীর সমাগম দেখা গেছে। সন্ধ্যা নামতেই বিভিন্ন ঘাটে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থী উপস্থিত হন এবং দশাশ্বমেধ ঘাটে মহাআরতির আয়োজন করা হয়, যেখানে ১১ জন বৈদিক ব্রাহ্মণ এবং ২১ জন দেবকন্যা অংশ নেন।
মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও ঘণ্টাধ্বনির মধ্যে মা গঙ্গার আরতি শুরু হলে ঘাটে উপস্থিত পুণ্যার্থীরা “হর-হর মহাদেব” এবং “গঙ্গা মাইয়া কি জয়” ধ্বনি দিতে দেখা যায়। বিশেষভাবে সজ্জিত ঘাটে প্রদীপের আলো এবং ধূপ-দীপের সুবাসের মধ্যে মহাআরতির অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটক ও পুণ্যার্থীদেরও সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
অসি ঘাটেও গঙ্গা দশহরা উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সেখানে মা গঙ্গাকে ৫৬ প্রকারের ভোগ নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন, ফল এবং ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী সাজিয়ে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
ধর্মাচার্যদের মতে, গঙ্গা দশহরার দিনে মা গঙ্গার পূজা ও স্নানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন গঙ্গাস্নান এবং দান-পুণ্য করলে পাপমুক্তি হয় এবং জীবনে সুখ-শান্তি আসে।
বারাণসীর ঘাটগুলোতে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকে গঙ্গায় স্নান করে পূজা-অর্চনা করেন এবং পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির কামনা করেন।
মহাআরতির সময় বৈদিক ব্রাহ্মণরা প্রচলিত আচারবিধি অনুযায়ী পূজা সম্পন্ন করেন। দেবকন্যারাও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে আরতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ঘাটের দৃশ্য পুণ্যার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
উত্তর প্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাটজুড়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্প, পানীয় জল এবং ব্যারিকেডিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। প্রশাসন ঘাটে সতর্কতা অবলম্বন এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানায়।
সামাজিক মাধ্যমে কাশীর মহাআরতির ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রদীপে আলোকিত ঘাট এবং আরতির দৃশ্য বিভিন্ন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
কাশী বিশ্বনাথ ধামেও গঙ্গা দশহরা উপলক্ষে বিশেষ পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়। বহু পুণ্যার্থী গঙ্গাস্নানের পর বাবা বিশ্বনাথের দর্শন করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশীর গঙ্গা আরতি কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর এটি দেখতে লক্ষাধিক মানুষ বারাণসীতে পৌঁছান।
জেলা প্রশাসন বারাণসীর তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাত পর্যন্ত ঘাটজুড়ে ভজন-कीर्तन ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলবে।











