ভাগলপুরে গঙ্গার জলস্তর ফের বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ভাগলপুর স্টেশনে গঙ্গার জলস্তর ৩৩.২৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এখানে বিপদসীমা ৩৩.৬৮ মিটার। অর্থাৎ বর্তমানে নদীর জলস্তর বিপদসীমার প্রায় ৪১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
এর আগে ভাগলপুরে গঙ্গার জলস্তর ৩৩.২৪ মিটারে স্থির ছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে জলস্তর এই মাত্রার কাছাকাছি ছিল। তার আগে জলস্তর ৩৩.৩০ মিটারে পৌঁছেছিল, পরে প্রায় ৬ সেন্টিমিটার কমে যায়। জল কমার পর প্রশাসন এবং নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। তবে ফের জলস্তর বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী সময়ে গঙ্গার জলস্তর সামান্য বাড়তে পারে। এরপর জলস্তর স্থিতিশীল হওয়ারও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নদীর জলস্তর বর্তমানে বিপদসীমার নিচে থাকলেও লাগাতার বৃষ্টি এবং উজানের জলাধার এলাকা থেকে আসা জলের কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি নিয়মিত জলস্তর পর্যবেক্ষণ করছে।
ভাগলপুরের পাশাপাশি জেলার নদীতীরবর্তী অন্যান্য এলাকাতেও জলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। সরকারি বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেলার আজমাবাদে গঙ্গার জলস্তর ৩১.০৮ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে বিপদসীমা ৩০.৫৪ মিটার। অর্থাৎ আজমাবাদে নদীর জল ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপরে বইছে। একইভাবে সুলতানগঞ্জে গঙ্গার জলস্তর ৩৫.৮৫ মিটার রেকর্ড হয়েছে, যেখানে বিপদসীমা ৩৪.৫০ মিটার। কহলগাঁওয়েও জলস্তর ৩১.৬৯ মিটার, যা ৩১.০৯ মিটারের বিপদসীমার উপরে।
এর ফলে ভাগলপুর জেলার বিভিন্ন অংশে গঙ্গার পরিস্থিতি একরকম নয়। প্রধান ভাগলপুর স্টেশনে নদীর জলস্তর এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও আজমাবাদ, সুলতানগঞ্জ এবং কহলগাঁওয়ের মতো এলাকায় জল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে নদীতীরবর্তী গ্রাম, দিয়ারা এলাকা এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সমস্যা বাড়তে পারে।
গঙ্গার জলস্তর বাড়লে নদীর আশপাশের নিচু এলাকাগুলিতে তার প্রভাব প্রথম দেখা যায়। জল বাড়লে কৃষিজমিতে পানি ঢোকা, গ্রামীণ রাস্তায় জল জমা এবং দিয়ারা এলাকায় যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন এলাকায় কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে মানুষ নৌকা বা অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেন। জলস্তর বাড়লে এসব এলাকায় প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
ভাগলপুরে গঙ্গার জলস্তর নিয়ে প্রশাসন আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে। বাঁধ এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে জেলার বিভিন্ন অংশে গঙ্গা ও কোসি নদীর জলস্তরের ওঠানামার কারণে জলসম্পদ দফতরের আধিকারিকরা সংবেদনশীল বাঁধগুলিও পরিদর্শন করেছেন। রাঘোপুরসহ একাধিক এলাকায় বাঁধের নিরাপত্তা এবং বন্যা মোকাবিলার কাজের উপর নজর রাখা হচ্ছে।
গঙ্গার জল বাড়ার সঙ্গে নদীভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ে। ভাগলপুরের নদীতীরবর্তী এলাকায় আগে থেকেই ভাঙনের সমস্যা রয়েছে। জলস্তর বাড়লে নদীর স্রোতের চাপ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী গ্রামগুলির উপর বাড়তে পারে। ফলে প্রশাসনের সামনে একই সঙ্গে দুটি চ্যালেঞ্জ থাকে—বাড়তে থাকা জল থেকে বন্যা মোকাবিলা এবং নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ।
গত কয়েক দিনে জলস্তর কমায় মানুষের স্বস্তি এসেছিল। ভাগলপুরে গঙ্গার জলস্তর ৩৩.৩০ মিটার থেকে কমে ৩৩.২৪ মিটারে পৌঁছেছিল এবং কিছু সময় ওই স্তরেই স্থির ছিল। সংশ্লিষ্ট দফতরও তাৎক্ষণিক বড় কোনও বিপদের কথা জানায়নি। তবে এবার সম্ভাব্য জলস্তর বৃদ্ধির কারণে আগামী কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ।
ভাগলপুরে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের জলস্তরের পরিবর্তনের উপর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা বা দিয়ারা অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে জল বাড়লে নিরাপদ স্থানের তথ্য আগে থেকে জানা রাখা দরকার। পশুপালকদেরও পশুদের উঁচু ও নিরাপদ স্থানে রাখার প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ বন্যার পরিস্থিতিতে পশুপালকদের সমস্যাই বেশি হতে পারে।
জলস্তর বাড়লে গ্রামীণ এলাকায় যাতায়াতের রাস্তাও প্রভাবিত হতে পারে। যেসব এলাকায় রাস্তা আগে থেকেই নিচু, সেখানে জল জমলে চলাচল কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী নৌকা চলাচল এবং ত্রাণ ব্যবস্থাও সক্রিয় করতে হতে পারে। জল গুরুতর স্তরে পৌঁছানোর আগেই সংবেদনশীল এলাকাগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা করে প্রশাসন।
বিহারের সরকারি বন্যা পূর্বাভাসের তথ্যেও বিভিন্ন স্থানে একাধিক নদীর জল বিপদসীমার উপরে থাকার তথ্য রয়েছে। গঙ্গার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য প্রধান নদীতেও বিভিন্ন স্থানে জলস্তর সতর্কতা বা বিপদসীমার উপরে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভাগলপুরে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির বিষয়টিকেও বৃহত্তর বন্যা পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভাগলপুরে আপাতত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। প্রধান শহরের মাপ কেন্দ্রের হিসাবে গঙ্গার জলস্তর এখনও বিপদসীমার নিচে এবং দফতরগুলি নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। তবে নদীর অন্যান্য কয়েকটি মাপ কেন্দ্রে জল ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপরে পৌঁছেছে। ফলে সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
আগামী দিনে জলস্তর বৃদ্ধির গতি কম থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। অন্যদিকে লাগাতার বৃষ্টি অথবা উজান থেকে জলের চাপ বাড়লে নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। সেক্ষেত্রে নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা বাড়তে পারে। আপাতত প্রশাসন এবং জলসম্পদ দফতর গঙ্গার জলস্তরের প্রতিটি পরিবর্তনের উপর নজর রাখছে।
ভাগলপুরের মানুষের জন্য আপাতত প্রধান স্বস্তির বিষয় হল, মূল মাপ কেন্দ্রে গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে জেলার কিছু অংশে নদীর জল ইতিমধ্যেই বিপদসীমা অতিক্রম করেছে এবং ফের জলস্তর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে।











