মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে গঙ্গাসাগরে যেন মানবস্রোত। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম ভিড়, “সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার”—এই প্রবাদকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত চলবে পুণ্যস্নান, আর সেই সময়ের মধ্যেই পুণ্যার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ছাড়াতে পারে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
পুণ্যস্নানে রেকর্ড ভিড়
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মকর সংক্রান্তির দিনে একাই ৮৫ লক্ষের বেশি মানুষ গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করেছেন। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা সাধু-সন্ন্যাসী ও সাধারণ পুণ্যার্থীদের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণ কার্যত উপচে পড়ছে।
জাতীয় মেলার দাবিতে জোর
এখনও পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণা করতেই হবে। মানুষের মধ্য থেকেই এই দাবি আরও জোরালোভাবে উঠে আসবে।” রাজ্য সরকারের তরফে বহুদিন ধরেই এই দাবি জানানো হচ্ছে।
নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি
মেলার বিপুল ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ার মতো। এখনও পর্যন্ত ২৭২টি পকেটমারির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৬০টি ঘটনার দ্রুত সমাধান হয়েছে। মোট ৬৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিখোঁজদের খোঁজে সাফল্য
মেলায় ভিড়ের চাপে অনেকেই পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া ৪৮৮৩ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৪৮৬০ জনকে তাঁদের পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিমা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
গঙ্গাসাগর মেলায় দুর্ঘটনাজনিত বিমার অঙ্ক ধার্য করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। এই বিমার আওতায় রয়েছেন পুণ্যার্থী থেকে শুরু করে পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, পরিবহণ কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মেলা পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সমস্ত বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ও সরকারি যানবাহনে বসানো হয়েছে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম।
বিশেষ পরিষেবায় মানবিক ছোঁয়া
বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পুণ্যার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা যাতায়াত ব্যবস্থা, শৌচালয়, পানীয় জল ও চিকিৎসা পরিষেবা—যা প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বত্র।
মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের ঢল নজিরবিহীন। এখনও পর্যন্ত ৮৫ লক্ষ মানুষ পুণ্যস্নানে অংশ নিয়েছেন এবং প্রশাসনের অনুমান, এই সংখ্যা ১ কোটি ছাড়াতে পারে। নিরাপত্তা, নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মেলা পরিচালনায় নতুন দিশা দেখাচ্ছে প্রশাসন।










