বাগানে পিঁপড়ের উৎপাত? রান্নাঘরের এই ৫ জিনিসেই দূরে থাকবে দস্যি বাহিনী, গাছও থাকবে সুরক্ষিত

টবের গাছ ও রান্নাঘরের বাগান থেকে পিঁপড়ে দূরে রাখার ঘরোয়া উপায় জানুন। নিম তেল, হলুদ, দারচিনি, ভিনিগার ও লেবুর খোসা কীভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিন।

সাধের বাগান তৈরি করেছেন, টবে যত্ন করে গাছ লাগিয়েছেন, অথচ হঠাৎ দেখছেন গাছের গোড়া থেকে পাতা পর্যন্ত সারি সারি পিঁপড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে! শুধু দেখতে বিরক্তিকর নয়, গাছে অন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় থাকলে পিঁপড়ের আনাগোনা সেই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে পিঁপড়ে তাড়াতে সবসময় রাসায়নিক কীটনাশকের প্রয়োজন নেই। বাড়িতে থাকা কয়েকটি উপকরণ দিয়েই প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

গাছে পিঁপড়ে আসে কেন?

বাগানে পিঁপড়ে দেখা দেওয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। জাবপোকা বা মিলিবাগের মতো কীট গাছে আক্রমণ করলে তারা এক ধরনের মিষ্টি রস নিঃসরণ করে। সেই মিষ্টি পদার্থের টানেই পিঁপড়ে গাছের কাণ্ড ও পাতায় উঠে আসে।এছাড়া টবের মাটি অতিরিক্ত ভেজা থাকলে কিংবা মাটির উপর মিষ্টি খাবার বা পানীয় পড়ে থাকলেও পিঁপড়ের আনাগোনা বাড়তে পারে।তাই পিঁপড়ে দেখা গেলেই শুধু তাদের তাড়ানোর চেষ্টা না করে গাছে জাবপোকা, মিলিবাগ বা অন্য কোনও কীটের উপদ্রব রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন।

পিঁপড়ে গাছের কী ক্ষতি করে?

পিঁপড়ে সাধারণত সরাসরি গাছের পাতা বা গাছপালা খায় না। কিন্তু তারা গাছে থাকা কিছু ক্ষতিকর পোকাকে পরোক্ষভাবে রক্ষা করতে পারে। ফলে সেই পোকামাকড় গাছে থেকে যেতে পারে।এছাড়া টবের মাটিতে পিঁপড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করলে মাটির গঠনেও পরিবর্তন আসতে পারে। অতিরিক্ত পিঁপড়ের বাসা হলে গাছের শিকড়ের আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিম তেলের স্প্রে

বাগানের পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে নিম তেল দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এক লিটার পরিষ্কার জলে ৫-৬ ফোঁটা নিম তেল এবং ২ ফোঁটা তরল বাসন ধোয়ার সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। এরপর স্প্রে বোতলে ভরে গাছের পাতা ও মাটির আশপাশে প্রয়োগ করা যেতে পারে।তবে নতুন কোনও দ্রবণ পুরো গাছে দেওয়ার আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, কারণ সব গাছ একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না।

হলুদের ব্যবহার

রান্নাঘরের অতি পরিচিত উপকরণ হলুদও পিঁপড়ে দূরে রাখার ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়।

টবের মাটি সামান্য আলগা করে সেখানে প্রায় এক চা চামচ হলুদের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিতে পারেন। চাইলে অল্প জলে হলুদ মিশিয়ে গাছের গোড়ার আশপাশেও প্রয়োগ করা যায়।

তবে গাছের প্রজাতি অনুযায়ী মাটিতে কোনও উপাদান দেওয়ার আগে পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

দারচিনি ছড়িয়ে দিন

দারচিনির তীব্র গন্ধ পিঁপড়ের চলাচল নিরুৎসাহিত করতে পারে। এজন্য গাছের কাণ্ড এবং গোড়ার চারপাশের মাটিতে অল্প পরিমাণ দারচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে দিতে পারেন।টবের মাটিতে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে না দিয়ে অল্প করে ব্যবহার করাই ভালো। পিঁপড়ের চলাচলের পথেও সামান্য দারচিনি ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

ভিনিগার দিয়ে পিঁপড়ের রাস্তা পরিষ্কার

পিঁপড়েরা চলাচলের সময় গন্ধের রাস্তা তৈরি করে। সেই পথের গন্ধ মুছে দিলে তাদের চলাচল ব্যাহত হতে পারে।এর জন্য সমপরিমাণ সাদা ভিনিগার ও জল মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণ টবের বাইরের অংশ, স্ট্যান্ড এবং পিঁপড়ের চলাচলের জায়গায় স্প্রে করা যেতে পারে।তবে গাছের নরম পাতা বা সরাসরি গাছের গোড়ায় বেশি পরিমাণ ভিনিগার দ্রবণ ব্যবহার করা উচিত নয়।

লেবুর খোসা বা পুদিনার গন্ধ

লেবুর খোসা ফেলে না দিয়ে তা কাজে লাগাতে পারেন। জলে লেবুর খোসা ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে পিঁপড়ের চলাচলের জায়গায় স্প্রে করা যেতে পারে।

এছাড়াও পুদিনা পাতার রস বা জলে মেশানো অল্প পিপারমিন্ট তেল পিঁপড়ে দূরে রাখার ঘরোয়া উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পিঁপড়ে কমাতে এই বিষয়গুলিও মনে রাখুন

শুধু স্প্রে করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। টবের মাটিতে অতিরিক্ত জল জমতে দেবেন না। গাছের পাতায় জাবপোকা বা মিলিবাগ দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।একইসঙ্গে টবের আশপাশে মিষ্টি খাবারের টুকরো, চিনি বা মিষ্টি পানীয় পড়ে থাকলে পরিষ্কার করে ফেলুন। নিয়মিত গাছ ও মাটি পরীক্ষা করলে পিঁপড়ের উপদ্রবের কারণও সহজে বোঝা যায়।

Leave a comment