বাজার থেকে আর মুড়ি কিনতে হবে না! প্রেসার কুকারেই ৫ মিনিটে বানান মুচমুচে মুড়ি, খাস্তা থাকবে দীর্ঘদিন

বাজারের বদলে ঘরেই বানান মুচমুচে মুড়ি। পুরনো চাল, লবণ ও সামান্য জল দিয়ে প্রেসার কুকারে মুড়ি তৈরির সহজ পদ্ধতি জানুন।

চায়ের সঙ্গে মুড়ি, চানাচুর কিংবা পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে মাখা মুড়ি—বাঙালির জলখাবারের তালিকায় এর জনপ্রিয়তা আলাদা। সাধারণত বাজার থেকেই মুড়ি কিনে আনা হয়। কিন্তু বিশেষ একটি পদ্ধতি জানা থাকলে খুব সহজেই বাড়িতে তৈরি করা সম্ভব মুচমুচে মুড়ি। কোডারমার গৃহিণী রাধিকা প্রজাপতি ঘরোয়া উপায়ে মুড়ি তৈরির এই কৌশল শেয়ার করেছেন।

পুরনো চালেই লুকিয়ে মুড়ি তৈরির রহস্য

রাধিকার মতে, মুড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নতুন চালের তুলনায় পুরনো চাল বেশি কার্যকর হতে পারে। পুরনো চালে স্বাভাবিক আর্দ্রতা তুলনামূলক কম থাকায় তাপে দিলে তা দ্রুত ফুলে ওঠে। ফলে তৈরি হতে পারে হালকা, সাদা ও মুচমুচে মুড়ি।

প্রথমে চাল তৈরি করে নিন

এক কাপ পুরনো চাল নিয়ে তার সঙ্গে এক চা চামচ লবণ এবং ১ থেকে ২ টেবিল চামচ জল মেশাতে হবে। ভালো করে মিশিয়ে নিন, যাতে চালের প্রতিটি দানায় হালকা করে লবণ ও জলের প্রলেপ লাগে।এরপর একটি প্লেটে চাল ছড়িয়ে ফ্যানের নীচে অথবা হালকা রোদে প্রায় ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। এই সময় চালের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কিছুটা কমে যাবে।

প্রেসার কুকারে কীভাবে মুড়ি বানাবেন?

এবার আসল কাজ। একটি প্রেসার কুকারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাধারণ লবণ দিয়ে উচ্চ আঁচে গরম করুন। লবণ ভালোভাবে গরম হয়ে গেলে তাতে অল্প অল্প করে প্রস্তুত করা চাল দিতে হবে।তাপে পড়ার পর চালের দানা দ্রুত ফুলে উঠতে শুরু করবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা সাদা ও হালকা মুড়ির আকার নিতে পারে। তাই এই পর্যায়ে দ্রুত কাজ করা জরুরি।

লবণ কেন ব্যবহার করা হচ্ছে?

বাজারে সাধারণত বালি ব্যবহার করে মুড়ি ভাজার প্রচলন রয়েছে। বাড়িতে সেই পদ্ধতির পরিবর্তে গরম লবণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে চাল দ্রুত তাপ পায় এবং ফুলে ওঠে। একই লবণ পরবর্তী সময়ে আবার মুড়ি তৈরির কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে এই পদ্ধতিতে দাবি করা হয়েছে।

মুড়ি তৈরির পর এই কাজটি অবশ্যই করুন

চাল ফুলে মুড়ি হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি চালুনিতে ঢেলে নিন। এতে অতিরিক্ত লবণ আলাদা হয়ে যাবে। এরপর মুড়ি পুরোপুরি ঠান্ডা করে নিতে হবে।গরম মুড়ি সরাসরি পাত্রে ভরে রাখবেন না। সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পর শুকনো ও পরিষ্কার এয়ারটাইট কন্টেনারে সংরক্ষণ করুন। এতে বাইরের আর্দ্রতা ঢোকার সম্ভাবনা কমবে এবং মুড়ি দীর্ঘ সময় মুচমুচে রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

বাড়িতে মুড়ি বানানোর সময় মনে রাখবেন

সম্ভব হলে পুরনো চাল ব্যবহার করুন।

চালের সঙ্গে অতিরিক্ত জল দেবেন না।

লবণ মেশানোর পর চাল কিছুক্ষণ শুকিয়ে নিন।

গরম লবণে চাল অল্প অল্প করে দিন।

মুড়ি তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালুনিতে ছেঁকে নিন।

সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পর এয়ারটাইট পাত্রে রাখুন।

পাত্রে যেন আর্দ্রতা না ঢোকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

সকাল বা বিকেলের জলখাবারে বাঙালির অন্যতম পছন্দ মুড়ি। তবে বাজারের মুড়ির বদলে এবার চাইলে বাড়িতেই তৈরি করতে পারেন একেবারে মুচমুচে ও পরিষ্কার মুড়ি। পুরনো চাল, লবণ ও সামান্য জল দিয়েই প্রেসার কুকারে তৈরি করা যায় এই মুড়ি। কীভাবে করবেন, রইল সহজ পদ্ধতি।

Leave a comment