ভারী বা মশলাদার খাবারের পর হঠাৎ বুক জ্বালা, টক ঢেকুর বা পেট ফাঁপা—এই সমস্যা আজকাল ঘরে ঘরেই। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই এক গ্লাস জলে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করেন। এই ‘সাদা গুঁড়ো’ কি সত্যিই তাৎক্ষণিক আরাম দেয়? নাকি এতে লুকিয়ে রয়েছে ঝুঁকি? বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক Naresh Trehan।
কীভাবে কাজ করে বেকিং সোডা?
বেকিং সোডা (সোডিয়াম বাইকার্বনেট) একটি ক্ষারীয় পদার্থ। পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে তা সাময়িকভাবে নিরপেক্ষ করতে পারে এই ক্ষারীয় উপাদান। ফলে বুক জ্বালা, টক ঢেকুর বা গলায় জ্বালাপোড়া কিছুক্ষণের জন্য কমতে পারে।এই কারণেই অনেকেই একে “তাৎক্ষণিক উপশমের ঘরোয়া টোটকা” বলে মনে করেন।
গ্যাস ও পেট ফাঁপায় কতটা উপকার?
ভাজা, তৈলাক্ত বা ধীরে হজম হওয়া খাবার খেলে পেটে গ্যাস জমতে পারে। জলে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে হালকা ঢেকুর উঠতে সাহায্য করতে পারে, যা পেটের চাপ কিছুটা কমায়। তবে এটি হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে না, শুধুমাত্র অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমাতে পারে।
কখন খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে অম্বল বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণত ১ গ্লাস জলে আধা থেকে ১ চা চামচের বেশি না নেওয়াই ভালো।প্রতিদিন বা দীর্ঘদিন ধরে এটি সেবন করা উচিত নয়। কারণ এতে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যায় ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কাদের এড়ানো উচিত?
উচ্চ রক্তচাপের রোগী
কিডনি সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি
গর্ভবতী নারী
যাঁরা নিয়মিত ওষুধ খান
এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেকিং সোডা সেবন করা উচিত নয়।
বিকল্প কী?
নিয়মিত অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন জরুরি।
অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়া
অতিরিক্ত তেল-মশলা এড়ানো
খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে না শোওয়া
পর্যাপ্ত জল পান
গ্যাস, অম্বল, বুক জ্বালা বা পেট ফাঁপার সমস্যায় অনেকেই ভরসা করেন জলে মেশানো বেকিং সোডায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাময়িকভাবে আরাম দিতে পারে ঠিকই, তবে সঠিক পরিমাণ ও সময় জানা জরুরি। অতিরিক্ত বা নিয়মিত সেবনে হতে পারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কীভাবে কাজ করে এই ঘরোয়া উপায়? কাদের এড়ানো উচিত? রইল বিস্তারিত।













