ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাইরে এখন নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে ভিন্নধর্মী পেশার দিকে। সেই তালিকায় দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ‘জেমোলজি’ বা রত্নবিজ্ঞান। মূল্যবান পাথর ও হিরের আসল-নকল যাচাই থেকে শুরু করে জুয়েলারি ডিজাইন— সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে প্রশিক্ষিত জেমোলজিস্টদের চাহিদা। উচ্চ মাধ্যমিকের পর এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে খুলে যেতে পারে নতুন কেরিয়ারের দরজা।
কী এই জেমোলজি?
জেমোলজি মূলত মূল্যবান ও অর্ধমূল্যবান রত্নপাথর নিয়ে গবেষণার একটি বিশেষ শাখা। এটি খনিজ বিজ্ঞানের একটি আন্তঃবিভাগীয় অংশ, যেখানে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম রত্নপাথরের গঠন, বৈশিষ্ট্য, গুণমান এবং বাজারমূল্য বিশ্লেষণ করা হয়।একজন জেমোলজিস্টের প্রধান কাজ হল কোনও পাথর আসল না নকল, তা শনাক্ত করা এবং তার মান নির্ধারণ করা।
কী কী শেখানো হয়?
এই বিষয়ে পড়াশোনার সময় মূলত শেখানো হয়—
Gem Identification
Diamond Grading
Jewellery Designing
Stone Classification
Gem Treatment Detection
অনেক সময় রত্নপাথরের উজ্জ্বলতা বাড়াতে রাসায়নিক প্রলেপ বা তাপ প্রয়োগ করা হয়। সেই ট্রিটমেন্ট শনাক্ত করার পদ্ধতিও শেখানো হয় জেমোলজিতে।
কোথায় পড়বেন?
কলকাতায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জেমোলজি নিয়ে কোর্স করা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
SINGEM
Shankhsukh Institute
এখানে শর্ট টার্ম সার্টিফিকেট কোর্স থেকে শুরু করে বিএসসি ও এমএসসি স্তরের কোর্সও করা যায়।
কোর্সের খরচ কত?
কোর্সের ধরন ও সময়সীমার উপর নির্ভর করে খরচ আলাদা হয়। সাধারণভাবে—
শর্ট টার্ম কোর্স: প্রায় ৩০,০০০ টাকা থেকে
ডিপ্লোমা বা অ্যাডভান্স কোর্স: ৫০,০০০–১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
কিছু প্রতিষ্ঠানে কিস্তিতে ফি জমা দেওয়ার সুবিধাও থাকে।
চাকরির সুযোগ কোথায়?
জেমোলজি নিয়ে পড়াশোনা করলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। যেমন—
জুয়েলারি ব্র্যান্ড
ডায়মন্ড ল্যাব
রত্ন মূল্যায়ন সংস্থা
জুয়েলারি ডিজাইন স্টুডিও
এক্সপোর্ট হাউস
এছাড়াও ফ্রিল্যান্স জেম কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করা যায়।
কতটা বাড়ছে চাহিদা?
বর্তমানে বড় বড় জুয়েলারি ব্র্যান্ড ও সোনার দোকানে প্রশিক্ষিত জেমোলজিস্টদের চাহিদা বাড়ছে। কারণ গ্রাহকদের মধ্যে এখন আসল ও মানসম্পন্ন রত্ন কেনার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে রত্ন যাচাই ও মূল্য নির্ধারণে দক্ষ পেশাদারদের প্রয়োজনও বাড়ছে।
কারা এই কোর্স করতে পারবেন?
উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেই এই বিষয়ে ভর্তি হওয়া যায়। বিজ্ঞান বিভাগ থাকলে সুবিধা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীদেরও সুযোগ দেয়।
উচ্চ মাধ্যমিকের পর প্রচলিত বিষয়ের বাইরে কেরিয়ার গড়তে চাইলে জেমোলজি হতে পারে আকর্ষণীয় বিকল্প। মূল্যবান রত্নপাথর চিহ্নিতকরণ, গুণমান যাচাই ও মূল্য নির্ধারণের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রিতে মিলতে পারে চাকরির সুযোগ। কলকাতার একাধিক প্রতিষ্ঠানেও এই কোর্স পড়ানো হচ্ছে।













