প্রেমের গল্প এখন অনেক সময়ই শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। কিন্তু সেই সম্পর্ক সবসময় টেকসই হয় না—এমন অভিজ্ঞতা থেকেই বদলাচ্ছে মনোভাব। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রজন্মের একাংশ এখন আবেগের বশে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্কের কথা ভেবেই জীবনসঙ্গী বেছে নিতে চাইছে। তাই অনেকে আবারও ফিরছে বহু প্রাচীন প্রথা—জন্মছক বা কুণ্ডলী মিলিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে।

ডেটিং অ্যাপ থেকে ঐতিহ্যের পথে
এক সময় মনে করা হতো, জেন–জি প্রজন্ম বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে খুব বেশি বিশ্বাস করে না। অনেকেই স্বল্পমেয়াদি সম্পর্ক বা ডেটিংকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সম্পর্ক ভাঙন, বিবাহবিচ্ছেদ বা ভুল সঙ্গী বেছে নেওয়ার ভয় থেকেই অনেকে এখন ঐতিহ্যগত পদ্ধতির দিকে ফিরছেন।
কেন জন্মছক মিলিয়ে বিয়েতে আগ্রহ বাড়ছে
জ্যোতিষীদের মতে, কুণ্ডলী বা জন্মছক মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে দুই ব্যক্তির মানসিকতা, পারিবারিক ভাবনা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গির কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। যদিও সবকিছু শতভাগ নির্ভুল নয়, তবুও অনেক পরিবার মনে করে এতে সম্পর্কের স্থায়িত্ব সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া সম্ভব।
কোন কোন দোষ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা
জ্যোতিষশাস্ত্রে কয়েক ধরনের ‘দোষ’-এর কথা বলা হয়, যা বিবাহিত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়।
নাড়ি দোষ:
এই দোষ থাকলে স্বাস্থ্য ও সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে অনেক জ্যোতিষী মনে করেন।
ভকূট দোষ:
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ ও দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
গ্রহ মৈত্রী সমস্যা:
মানসিক সামঞ্জস্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে দাম্পত্য জীবনে ঘন ঘন বিবাদ দেখা দিতে পারে।
যোনি দোষ:
শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য বা আগ্রহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রবণতা আসলে নিরাপত্তার খোঁজ। অনেক তরুণ-তরুণী মনে করছেন, শুধু আবেগ বা অল্প পরিচয়ের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার বদলে কিছুটা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। তাই ঐতিহ্যগত পদ্ধতিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

আধুনিক যুগে প্রেম মানেই সোশ্যাল মিডিয়া বা ডেটিং অ্যাপ—এই ধারণা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও জ্যোতিষীদের মতে, নতুন প্রজন্মের একাংশ এখন বিয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে যাওয়ার আগে জন্মছক বা কুণ্ডলী মিলিয়ে দেখতে আগ্রহী। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বিবাহবিচ্ছেদ ও সম্পর্ক ভাঙনের বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই প্রাচীন জ্যোতিষ প্রথার দিকে আবারও ঝুঁকছে জেন–জি।








