গোয়া নাইটক্লাবে আগুন লাগার পর ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মালিক সৌরভ এবং গৌরব লুথরা পলাতক। পুলিশ ইন্টারপোলের সাহায্যে ব্লু কর্নার নোটিশ জারি করবে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাদের অনুসন্ধান করবে।
Goa nightclub fire: গোয়া নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনার পর এই ক্লাবের মালিক সৌরভ এবং গৌরব লুথরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। রবিবার দুই ভাই ফুকেট-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এখন গোয়া পুলিশ ইন্টারপোলের সাহায্যে তাদের ধরতে ব্লু কর্নার নোটিশ জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক স্তরে দুই ভাইকে ট্র্যাক করতে এবং তাদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে।
নিহতদের সংখ্যা
পানাজি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাইটক্লাবটিতে শনিবার গভীর রাতে ভয়াবহ আগুন লাগে, যাতে ২৫ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ২০ জন নাইটক্লাবের কর্মী এবং পাঁচজন পর্যটক ছিলেন, যাদের মধ্যে চারজন দিল্লির বাসিন্দা। আগুনে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা সরকারি গোয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (জিএমসিএইচ)-এ চলছে। ঘটনাটি কেবল স্থানীয়ভাবে নয়, সারা দেশে উদ্বেগ ও শোকের জন্ম দিয়েছে।
লুথরা ভাইদের পলায়ন
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লুথরা ভাইয়েরা ৭ই ডিসেম্বর সকাল ৫:৩০ টায় ইন্ডিগো ফ্লাইট নম্বর 6E 1073-এ ফুকেট-এর উদ্দেশ্যে রওনা হন। মুম্বাই-ভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যুরোর সাহায্যে জানা গেছে যে আগুন লাগার পরপরই দুই অভিযুক্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। গোয়া পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি লুকআউট সার্কুলার জারি করেছিল এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (বিওআই)-কে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল।
![]()
তৃতীয় সঙ্গীর অনুসন্ধান জোরদার
গোয়া পুলিশ লুথরা ভাইদের তৃতীয় সঙ্গী অজয় গুপ্তার অনুসন্ধানও জোরদার করেছে। জানা গেছে যে অজয় গুপ্তা এই নাইটক্লাবের একজন অংশীদার ছিলেন এবং এই মামলায় তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তাদের দিল্লির বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল, যা জিটিবি নগর এলাকায় অবস্থিত। তবে, সেখানে কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না এবং বাড়ি তালাবদ্ধ ছিল।
ব্লু কর্নার নোটিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের চেষ্টা
গোয়া পুলিশ ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্লু কর্নার নোটিশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে সৌরভ এবং গৌরব লুথরার অনুসন্ধান করা হবে। এই নোটিশ জারি হওয়ার পর দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করলেই তাদের হেফাজতে নেওয়া যাবে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পদক্ষেপ
গোয়া পুলিশ আগুন লাগার ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। এরপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দুই ভাইয়ের আন্তর্জাতিক ও দেশব্যাপী অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে যে মামলায় সমস্ত সূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের আশা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা ক্রমাগত বিমানবন্দর এবং বিমান পথে তাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার তদন্ত অব্যাহত
নাইটক্লাবে আগুন লাগার কারণগুলির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ক্লাবে নিরাপত্তা মানগুলি অনুসরণ করা হয়নি এবং এই আগুন সেই অবহেলার ফল হতে পারে। পুলিশ বলেছে যে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির দায়বদ্ধতা নির্ধারণের জন্য তদন্ত সম্পূর্ণ সততার সাথে করা হচ্ছে।









