মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভারতে সোনা ও রুপোর দামে পতন রেকর্ড করা হয়েছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬১,২৭০ রুপিতে নেমেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও ভারতে সোনা ও রুপোর দামে পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পরও দেশে সোনার মূল্য ধারাবাহিকভাবে কমছে। ৭ মার্চ ২০২৬ সকালে রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬১,২৭০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
মুম্বাইয়ে সোনার দাম প্রায় একই স্তরে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬১,১২০ রুপিতে রয়েছে। ৬ মার্চ দিল্লির সারাফা বাজারে সোনার দামে ১,১০০ রুপির পতনের পর এই পরিবর্তন দেখা গেছে। টানা দ্বিতীয় দিন ব্যবসায়ীরা মুনাফা বুকিংয়ের কৌশল গ্রহণ করায় দেশীয় বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি
বিশ্বব্যাপী মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সম্পদের চাহিদা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড ১৪.৭০ ডলার বা ০.২৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৫,০৯৫.৮১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এর প্রভাব ভারতীয় বাজারে সীমিত ছিল, কারণ দেশীয় বাজারে ব্যবসায়ীরা মুনাফা বুকিং ও চাহিদার ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করছেন।
দেশের প্রধান শহরগুলিতে সোনার দাম
দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬১,২৭০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৮৪০ রুপি। মুম্বাই, চেন্নাই এবং কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬১,১২০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৬৯০ রুপি।
পুণে এবং বেঙ্গালুরুতেও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬১,১২০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৬৯০ রুপি রেকর্ড করা হয়েছে। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬১,১৭০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৭৪০ রুপি। হায়দরাবাদেও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬১,১২০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৬৯০ রুপি। জয়পুর, ভোপাল, লখনউ এবং চণ্ডীগড়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৬১,২৭০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৮৪০ রুপিতে লেনদেন হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপট
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে এয়ার স্ট্রাইক চালায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করে। এর পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা তখনই সম্ভব যখন তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে।
এই সংঘাত বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। সাধারণত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময় সোনার দাম বাড়ার প্রত্যাশা থাকে, তবে দেশীয় বাজারে ব্যবসায়ীদের মুনাফা বুকিং এবং বিদ্যমান চাহিদার কারণে দাম নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।
রুপোর দামেও পতন
সোনার পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতু রুপোর দামেও পতন দেখা গেছে। ৭ মার্চ সকালে দিল্লির সারাফা বাজারে রুপোর দাম প্রতি কিলোগ্রামে ২,৮৪,৯০০ রুপিতে নেমেছে। এর একদিন আগে রুপোর দাম প্রায় ৬০০ রুপি কমে প্রতি কিলোগ্রামে ২,৭১,৭০০ রুপিতে ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার ১.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৮৩.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
রুপোর দামের দেশীয় পতন এবং আন্তর্জাতিক স্পট দামের মধ্যে পার্থক্য ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও দেশীয় বাজারে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা বুকিং করছেন, যার ফলে দামের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।












