সোনা না কিনেই সোনার মতো রিটার্ন! গোল্ড ETF ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে কীভাবে মিলবে নিরাপদ লাভ

সোনা না কিনেই সোনার মতো রিটার্ন! গোল্ড ETF ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে কীভাবে মিলবে নিরাপদ লাভ

সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি, বাজারে অস্থিরতা আর ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে ফের নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে ফিরছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু গয়না বা বিস্কুট আকারে সোনা কেনা মানেই ঝুঁকি, সংরক্ষণের ঝামেলা ও মেকিং চার্জ। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে গোল্ড ETF ও সোনা–ভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড।

ভৌত সোনা নয়, বিনিয়োগে সোনার লাভ

যাঁরা সোনা বা রুপোতে বিনিয়োগ করতে চান কিন্তু বাস্তবে ধরে রাখতে চান না, তাঁদের জন্য আদর্শ বিকল্প হল এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF) ও ফান্ড-অফ-ফান্ড (FoF)। এই স্কিমগুলিতে বিনিয়োগ করলে NAV অনুযায়ী ইউনিট বরাদ্দ হয় এবং তহবিলের মালিকানায় থাকে ভৌত সোনা বা রুপো। ফলে ধাতুর দামের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়েই বাড়ে বা কমে বিনিয়োগের মূল্য।

রিটার্নের অঙ্কই বলছে গল্প

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে সোনা প্রায় ৭৩% এবং রুপো ১৬১% পর্যন্ত রিটার্ন দিয়েছে। তিন বছরের গড় বার্ষিক রিটার্নে সোনার লাভ প্রায় ৩২.৯৮%, আর রুপোর ক্ষেত্রে তা ৪৮.৭৭%। এই কারণেই ধাতুভিত্তিক ফান্ডগুলির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।

মাল্টি-অ্যাসেট ফান্ডে ঝুঁকি কমানোর কৌশল

ETF ও FoF-এর বাইরে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরেকটি স্মার্ট বিকল্প হল মাল্টি-অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ড। এই ধরনের ফান্ডে সাধারণত পোর্টফোলিওর ১০–২৫ শতাংশ সোনা ও রুপোর মতো মূল্যবান ধাতুতে রাখা হয়, আর বাকি অংশ বিনিয়োগ হয় ইক্যুইটি ও ডেট ইনস্ট্রুমেন্টে। এর ফলে একাধিক সম্পদের মধ্যে বিনিয়োগ ছড়িয়ে পড়ে, যা বাজারের অস্থিরতার সময় ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তবে মনে রাখতে হবে, ধাতুর দামে যদি হঠাৎ বড়সড় উত্থান ঘটে, তখন এই ফান্ডে বিনিয়োগকারীরা সেই পুরো লাভের সুবিধা নাও পেতে পারেন।

SIP-এ বিনিয়োগ সম্ভব?

হ্যাঁ, একেবারেই সম্ভব। গোল্ড ETF বা সংশ্লিষ্ট ফান্ডে এককালীন বিনিয়োগের পাশাপাশি SIP বা STP-এর মাধ্যমেও টাকা লাগানো যায়। বিনিয়োগের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করা যায়।

বিনিয়োগের আগে করের হিসেবটা বুঝে নিন

গোল্ড বা সিলভার ETF-এ বিনিয়োগ থেকে লাভ তুলে নিতে গেলে করের নিয়ম জানা খুব জরুরি। যদি ১২ মাসের মধ্যে এই ETF বিক্রি করা হয়, তবে লাভের অঙ্কটি আপনার ব্যক্তিগত আয়ের স্ল্যাব অনুযায়ী করের আওতায় পড়ে। আর এক বছর পার করে বিনিয়োগ ধরে রাখলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে গণ্য হয়, যেখানে লাভের উপর নির্দিষ্ট ১২.৫ শতাংশ হারে লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হয়। তাই কতদিনের জন্য বিনিয়োগ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় করের দিকটাও মাথায় রাখা দরকার।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবারে বড় অঙ্ক বিনিয়োগ না করে ‘বাই অন ডিপস’ কৌশল অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের। মোট পোর্টফোলিওর ১০–১৫% এই ধাতুগুলিতে রাখা যথেষ্ট। ঝুঁকির বিরুদ্ধে হেজ হিসেবে প্রায় ১০% সোনা ও ৩–৫% রুপোতে ধাপে ধাপে SIP-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ভৌত সোনা বা রুপো না কিনেও বিনিয়োগের মাধ্যমে মিলতে পারে সোনার মতো রিটার্ন। গোল্ড ETF, সিলভার ETF ও মাল্টি-অ্যাসেট মিউচুয়াল ফান্ডের সাহায্যে কম ঝুঁকিতে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন, জেনে নিন সহজ গাইডে।

Leave a comment