ওজন বাড়ছে মানেই কি লাইফস্টাইলের দোষ? স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত নীরব পরিবর্তন উপেক্ষা করলে কতটা বড় বিপদ হতে পারে জানেন?

ওজন বাড়ছে মানেই কি লাইফস্টাইলের দোষ? স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত নীরব পরিবর্তন উপেক্ষা করলে কতটা বড় বিপদ হতে পারে জানেন?

কাজ, পরিবার, সমাজ—সব সামলাতে গিয়ে নিজের শরীরকে অবহেলা করেন বহু নারী। সামান্য ওজন বৃদ্ধি, পেট ফাঁপা বা পোশাকের মাপে পরিবর্তনকে অনেকেই হরমোন, স্ট্রেস কিংবা ব্যস্ত জীবনের স্বাভাবিক ফল বলে ধরে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কখনও কখনও এই ‘নীরব পরিবর্তন’-ই হতে পারে গুরুতর স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যার প্রথম সতর্ক সংকেত।

“ব্যথা নেই মানেই সমস্যা নেই”—এই ধারণাই বিপজ্জনক

মুম্বই সেন্ট্রালের ওকহার্ট হাসপাতালের কনসালটেন্ট গাইনোকোলজিস্ট ও অবস্টেট্রিশিয়ান ডা. ইন্দ্রাণী সালুঙ্খে জানাচ্ছেন, অধিকাংশ নারী প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করেন কারণ তাঁরা নিজেকে ‘অসুস্থ’ মনে করেন না। অথচ বহু গুরুতর স্ত্রীরোগ ব্যথা বা নাটকীয় উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে।

নীরবে বাড়ে জরায়ুর ফাইব্রয়েড

বিশেষ করে জরায়ুর ফাইব্রয়েড এমন একটি সমস্যা যা মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর কোনও স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বেড়ে উঠতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি নারীর প্রজনন ক্ষমতা, হরমোনের ভারসাম্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে, অথচ রোগী বুঝতেই পারেন না।

কেন ফাইব্রয়েড ধরা পড়ে দেরিতে?

ডা. সালুঙ্খে জানাচ্ছেন, প্রজনন বয়সী নারীদের মধ্যে ফাইব্রয়েড অন্যতম সাধারণ টিউমার। কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রক্তপাত বা পেলভিক ব্যথা দেখা যায়, আবার অনেকের ক্ষেত্রে কোনও উপসর্গই থাকে না। ফলে টিউমার বড় আকার না নেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি ধরা পড়ে না।

বাস্তব ঘটনা, বাস্তব সতর্কতা

সম্প্রতি ওকহার্ট হাসপাতালে এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে। এক তরুণী, অবিবাহিত নারী, ধীরে ধীরে পেটের আকার বাড়তে দেখলেও সেটিকে সাধারণ ওজন বৃদ্ধি বলে ভেবেছিলেন। না ছিল ব্যথা, না ঋতুচক্রের সমস্যা। পরে চিকিৎসকের কাছে গেলে ধরা পড়ে—তাঁর জরায়ুতে সাত মাসের গর্ভাবস্থার সমান আকারের একটি বিশাল ফাইব্রয়েড!

দেরির পেছনের কারণ কী?

চিকিৎসকদের মতে, অনেক নারী চিকিৎসা নিতে দেরি করেন কারণ তাঁরা নিজেদের সুস্থ মনে করেন, দৈনন্দিন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকেন অথবা অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ভয় পান। সমাজের একটি অংশ এখনও নারীদের ‘সহ্য করে চলা’-কেই স্বাভাবিক বলে শেখায়।

শারীরিকের পাশাপাশি মানসিক চাপও কম নয়

এই ধরনের রোগ ধরা পড়লে শুধু শরীর নয়, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বহু নারী। শরীরের গঠন বদলে যাওয়া, ভবিষ্যতে সন্তানধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা—সব মিলিয়ে মানসিক চাপ তীব্র হয়ে ওঠে।

আশার আলো চিকিৎসাবিজ্ঞানে

ডা. সালুঙ্খে জানান, আধুনিক স্ত্রীরোগবিদ্যার অগ্রগতির ফলে এখন সময়মতো রোগ নির্ণয় হলে বহু ক্ষেত্রেই জরায়ু ও প্রজনন ক্ষমতা রক্ষা করা সম্ভব। উপরের ঘটনাতেও সতর্ক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর জরায়ু সংরক্ষণ করা গিয়েছে।

সবচেয়ে বড় শিক্ষা কোথায়?

চিকিৎসকের কথায়, “সবচেয়ে বড় শিক্ষা অপারেশন থিয়েটারের বাইরে। শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলোকে গুরুত্ব দেওয়াই আসল সচেতনতা।”

হঠাৎ পেটের ওজন বেড়ে যাওয়া বা শরীরের গঠনে সামান্য পরিবর্তন অনেক সময় গুরুতর স্ত্রীরোগের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের শরীরের এই সূক্ষ্ম সংকেত উপেক্ষা করা ভবিষ্যতে বড় শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

Leave a comment