গোরখপুরে ৪০০ দিনে টাকা দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২ হাজার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ৪০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে ৪০০ দিনে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২ হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সংস্থার কার্যপ্রণালী, ব্যাংক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করছে।
গোরখপুরে ৪০০ দিনে টাকা দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২ হাজার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ৪০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ
Photo Credit / Attribution: google

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে বিনিয়োগের নামে বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, একটি সংস্থা মাত্র ৪০০ দিনে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২ হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী টাকা ফেরত না পাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, সংস্থার পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের অল্প সময়ে ভালো রিটার্ন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সংস্থার পরিকল্পনায় টাকা বিনিয়োগ করলে নির্ধারিত সময় শেষে সেই অর্থ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সাধারণ বিনিয়োগের তুলনায় বেশি রিটার্নের প্রতিশ্রুতি বহু মানুষকে আকৃষ্ট করে এবং বড় সংখ্যায় মানুষ তাঁদের সঞ্চয়ের অর্থ এতে বিনিয়োগ করেন।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন অনেকেই ছিলেন, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে সঞ্চয় করা অর্থ এই প্রকল্পে রেখেছিলেন। কেউ ব্যবসা থেকে সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করেন, আবার কেউ পরিবারের প্রয়োজনের জন্য রাখা টাকা এতে দেন। বেশি রিটার্নের আশায় কিছু মানুষ আত্মীয় ও পরিচিতদেরও এই প্রকল্পে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন। পরে টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়ে।

অভিযোগ, শুরুতে সংস্থার কার্যকলাপ স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে রিটার্ন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হতো। এর ফলে সংস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস বাড়তে থাকে। বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সংস্থার কাছে বিপুল অর্থ পৌঁছানোর পর কথিতভাবে টাকা ফেরতে সমস্যা শুরু হয়।

৪০০ দিনে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ করার দাবি এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বলে জানা যাচ্ছে। অল্প সময়ে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি বহু মানুষকে এই প্রকল্পে যুক্ত করে। তবে কোনো বিনিয়োগ প্রকল্পে অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং নির্দিষ্ট রিটার্নের দাবি বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতার সংকেত হতে পারে।

বিষয়টি সামনে আসার পর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা যে অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় জমা করেছিলেন, তা ফেরত মিলবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। বহু বিনিয়োগকারী সংস্থা এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

তদন্তে পুলিশ সংস্থাটি কীভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছেছিল এবং সংগৃহীত অর্থ কোথায় কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পারে। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা নেওয়া হয়েছিল, পরে সেই অর্থ কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে এবং অন্য রাজ্য বা অন্য কোনো মাধ্যমে তা পাঠানো হয়েছিল কি না, সেগুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেনের পরীক্ষা থেকে পুরো নেটওয়ার্কের তথ্য সামনে আসতে পারে।

প্রায় ২ হাজার মানুষের এই ঘটনায় যুক্ত থাকার দাবি রয়েছে। তদন্তে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত হলে পুলিশকে বিপুল পরিমাণ নথি ও অভিযোগ সংগ্রহ করতে হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের পেমেন্টের রসিদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সংস্থার দেওয়া নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হতে পারে।

তদন্তে সংস্থা বিনিয়োগকারীদের কী ধরনের নথি বা চুক্তিপত্র দিয়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। সেখানে রিটার্নের শর্ত কী ছিল, টাকা দ্বিগুণ করার দাবি কীসের ভিত্তিতে করা হয়েছিল এবং পেমেন্টের সময়সীমা কী নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পরে তাঁদের টাকা নিরাপদে ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা ফেরতের সময় এলে তাঁরা সমস্যার মুখে পড়েন। তদন্তে এই ঘটনায় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পেমেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার কোনো ধরণ অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।

গোরখপুরে এর আগে ভুয়ো সংস্থা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। জুলাই ২০২৬-এ গোরখপুর পুলিশ একটি ভুয়ো মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ২১টি সাইবার প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে এক মহিলা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশের মতে, ট্রেডিং, অনলাইন বিনিয়োগ এবং উচ্চ রিটার্নের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক রাজ্যের মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বর্তমান ঘটনাতেও তদন্তকারী সংস্থাগুলি সংস্থার নথি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পারে। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়ে থাকলে সেই অ্যাকাউন্টগুলির সুবিধাভোগী এবং লেনদেনও পরীক্ষা করা হতে পারে।

এই ধরনের আর্থিক ঘটনায় শুধু সংস্থার পরিচালকদের ভূমিকা নয়, এজেন্ট এবং বিনিয়োগ সংগ্রহকারী ব্যক্তিদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কোনো ব্যক্তি কমিশন বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে মানুষকে এই প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করে থাকলে তাঁর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পুলিশকে অভিযোগগুলির সত্যতাও যাচাই করতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি কত টাকা বিনিয়োগ করেছেন, কখন জমা দিয়েছেন, কোন মাধ্যমে পেমেন্ট করেছেন এবং তাঁকে কী ধরনের রিটার্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই তথ্য নথিভুক্ত করা হতে পারে। এরপর মোট ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সামনে আসতে পারে।

এই ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা তাঁদের অর্থ ফেরত পাওয়া। তদন্তে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতারণার অর্থ পাওয়া গেলে বা সেই অর্থ দিয়ে কেনা সম্পত্তির সন্ধান মিললে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা বা সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে প্রকৃত অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

বিনিয়োগকারীদের এই ধরনের প্রকল্প সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। কোনো সংস্থা অল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ করার দাবি করলে শুধু এজেন্ট বা প্রচারসামগ্রীর ওপর নির্ভর করে অর্থ বিনিয়োগ না করে সংস্থার নিবন্ধন, প্রকল্পের বৈধতা, নথি এবং নিয়ন্ত্রক অবস্থান যাচাই করা জরুরি।

গোরখপুরের এই ঘটনায় ৪০০ দিনে টাকা দ্বিগুণ করার দাবি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। কিন্তু টাকা ফেরতে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সেই দাবিই বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীরা পুলিশি তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

তদন্তে সংস্থা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় এজেন্ট, বৈঠক বা অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী কোনো একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে থাকলে সেই নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের ভূমিকাও সামনে আসতে পারে।

পুলিশ এটিও পরীক্ষা করতে পারে যে সংস্থার নামে বাস্তব কোনো ব্যবসা চলছিল কি না, নাকি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি আর্থিক প্রকল্প ব্যবহার করা হয়েছিল। সংস্থার ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য পাওয়া গেলে কথিত প্রতারণার প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে তা সহায়ক হতে পারে।

প্রায় ৪০ কোটি টাকার কথিত প্রতারণা বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলেছে। যাঁরা সঞ্চয় বা ভবিষ্যতের প্রয়োজনের জন্য অর্থ জমিয়েছিলেন, তাঁদের সামনে এখন আর্থিক সংকট তৈরি হতে পারে। বহু পরিবারের ক্ষেত্রে এই অর্থ বছরের পর বছর ধরে উপার্জন করা সঞ্চয় হতে পারে।

তদন্ত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এবং মোট অর্থের পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে। অনেক বিনিয়োগকারী এখনও অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়ায় থাকতে পারেন। তাই পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া অভিযোগ এবং নথি যাচাইয়ের পরই পুরো ঘটনার চূড়ান্ত পরিসংখ্যান স্পষ্ট হবে।

গোরখপুরের এই ঘটনায় বিনিয়োগ প্রকল্প এবং বেশি রিটার্নের নামে হওয়া প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৪০০ দিনে টাকা দ্বিগুণ করার দাবিতে প্রায় ২ হাজার মানুষ আকৃষ্ট হয়েছেন বলে অভিযোগ, আর এখন বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী তাঁদের অর্থ ফেরত পেতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

সামগ্রিকভাবে, গোরখপুরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার কথিত প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, প্রায় ২ হাজার মানুষকে ৪০০ দিনে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। বিনিয়োগকারীরা প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার পর পেমেন্ট নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে প্রতারণার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ এখন সংস্থার কার্যপ্রণালী, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ এবং পুরো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।

Leave a comment