২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নসের আহ্বানে দেশজুড়ে সরকারি ব্যাংক কর্মীরা ধর্মঘটে অংশ নেন। পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যার ফলে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া সহ বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ধর্মঘটের পটভূমি
ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস জানায়, ২৩ জানুয়ারি প্রধান শ্রম কমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ২৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ব্যাংক কর্মীদের প্রধান দাবিগুলির বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি। ইউএফবিইউ সরকারি ব্যাংকে কর্মরত কর্মচারী ও আধিকারিকদের প্রতিনিধিত্বকারী নয়টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ।
পাঁচ দিনের ব্যাংকিংয়ের দাবি
ব্যাংক কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সব শনিবার ছুটি দিয়ে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, অন্যান্য কর্পোরেট ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যাংকিং ক্ষেত্রেও পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের মহাসচিব রূপম রায় জানান, মার্চ ২০২৪-এ স্বাক্ষরিত বেতন সংশোধন চুক্তির সময় ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন ও ইউএফবিইউ-এর মধ্যে সব শনিবার ছুটি দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে এখনও তা কার্যকর না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।
কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত অবস্থান
ইউনিয়নগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হলেও মোট কর্মঘণ্টায় কোনও ঘাটতি হবে না। সোমবার থেকে শুক্রবার প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ মিনিট কাজ করতে কর্মীরা প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

গ্রাহক পরিষেবা প্রসঙ্গ
ইউএফবিইউ-এর অন্তর্ভুক্ত ন্যাশনাল কনফেডারেশন অফ ব্যাংক এমপ্লয়িজের মহাসচিব এল চন্দ্রশেখর জানান, এই আন্দোলন গ্রাহকদের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি একটি টেকসই ও মানবিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার দাবিতে নেওয়া কর্মসূচি।
টানা তিন দিন পরিষেবা ব্যাহত
২৫ জানুয়ারি রবিবার এবং ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের কারণে ব্যাংক বন্ধ ছিল। ২৭ জানুয়ারির ধর্মঘটের ফলে টানা তৃতীয় দিনের মতো ব্যাংকিং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে নগদ লেনদেন, চেক ক্লিয়ারেন্স ও শাখা-ভিত্তিক জরুরি কাজের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অসুবিধা হতে পারে।
প্রভাবিত ব্যাংকগুলি
ধর্মঘটের প্রভাব মূলত সরকারি ব্যাংকগুলিতে পড়বে। এর মধ্যে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক অব বরোদা, ক্যানারা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়া সহ অন্যান্য পাবলিক সেক্টর ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকের শাখায় নগদ জমা ও উত্তোলন, চেক নিষ্পত্তি, ড্রাফট ইস্যু এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
বেসরকারি ব্যাংক ও ডিজিটাল পরিষেবা
এই ধর্মঘটে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলি অংশ নিচ্ছে না। এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, অ্যাক্সিস ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রাইভেট ব্যাংকের কাজকাজ স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও কিছু এলাকায় ক্লিয়ারিং বা আন্তঃব্যাংক প্রক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। ধর্মঘটের সময় নেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ইউপিআই, এটিএম ও কার্ড-সংক্রান্ত পরিষেবাগুলি সাধারণভাবে চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে শাখা-নির্ভর পরিষেবার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে।











