গুজরাটে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে: ময়দানে বিজেপি, কংগ্রেস ও আপের ম্যারাথন যাত্রা

গুজরাটে আসন্ন স্থানীয় ও ২০২৭ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। বিজেপি, কংগ্রেস, আপ তাদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। রাহুল গান্ধী অবৈধ মদ-মাদক ইস্যুতে সরকারের উপর বড় আক্রমণ করেছেন। বেকারত্ব, মুদ্

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিজ রাজ্য হওয়ায় গুজরাটের দিকে সারা দেশের নজর থাকে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী গুজরাটে মদ ও মাদকের বিক্রি নিয়ে বিজেপির উপর বড় আক্রমণ করেছেন।

আহমেদাবাদ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিজ রাজ্য গুজরাটে (Gujarat) রাজনৈতিক উত্তাপ আবারও তীব্র হয়েছে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশন (Winter Session of Parliament) চলাকালীন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) গুজরাটে অবৈধ মদ ও মাদকের বিক্রি নিয়ে বিজেপি সরকারের উপর বড় আক্রমণ করেন। এর পর রাজ্যের রাজনীতি আবারও জাতীয় শিরোনামে উঠে এসেছে।

এরই মধ্যে গুজরাটের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেস (Congress), ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং আম আদমি পার্টি (AAP) তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক যাত্রার মাধ্যমে জনসমর্থন সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন এবং ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রাজনৈতিক কার্যকলাপগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

কংগ্রেসের ‘জন আক্রোশ যাত্রা’-র দাবি: জনতার ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে

কংগ্রেস ২১শে নভেম্বর তাদের ‘জন আক্রোশ যাত্রা’ শুরু করেছিল, যা ৩রা ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। পার্টির দাবি, এই যাত্রা রাজ্য জুড়ে অভূতপূর্ব জনসমর্থন পেয়েছে। এই যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেস বিধায়ক অমিত চাবড়া (Amit Chavda)। কংগ্রেস বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, মদ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অবৈধ মদের বিক্রি, দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা জনিত সমস্যাগুলির মতো বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বিবৃতির পর কংগ্রেস আশা করছে যে অবৈধ মদ ও মাদক পাচারের বিষয়টি রাজ্যে একটি বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

বিজেপির ‘ইউনিটি মার্চ’: সর্দার প্যাটেলের নামে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন

কংগ্রেসের যাত্রার সমান্তরালভাবে বিজেপিও গুজরাটে ‘ইউনিটি মার্চ (Unity March)’ শুরু করেছে। এই যাত্রা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে। এই ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রার নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল বা রাজ্য সভাপতির বদলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য (Mansukh Mandaviya) দিচ্ছেন। 

এই যাত্রা আনন্দ জেলার করমসদ (Karamsad) থেকে শুরু হয়ে ৬ই ডিসেম্বর কেভাদিয়াতে (Kevadia) শেষ হবে, যেখানে বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ অবস্থিত। করমসদ সর্দার প্যাটেলের পৈতৃক গ্রাম, যখন কেভাদিয়া তাঁর স্মৃতির বৈশ্বিক প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিজেপি এই যাত্রার মাধ্যমে জাতিয়তাবাদ, একতা এবং উন্নয়নের বিষয়গুলি জনগণের সামনে তুলে ধরছে।

গুজরাটে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে: ময়দানে বিজেপি, কংগ্রেস ও আপের ম্যারাথন যাত্রা

তৃতীয় দাবিদার: AAP-এর ‘গুজরাট জোড়ো’ অভিযান

রাজ্যে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে উঠে আসা আম আদমি পার্টি (AAP)ও পুরো শক্তিতে ময়দানে রয়েছে। AAP সৌরাষ্ট্র এবং আদিবাসী অঞ্চলের পর এখন উত্তর গুজরাটের (North Gujarat) উপর মনোযোগ বাড়িয়েছে। রাজ্য সভাপতি ইসুদান গড়ভি (Isudan Gadhvi)-র নেতৃত্বে পার্টি ‘গুজরাট জোড়ো’ অভিযান চালাচ্ছে। এর অধীনে কৃষক, যুবক এবং গ্রামীণ জনসংখ্যাকে একত্রিত করতে শত শত সভা করা হয়েছে।

AAP-এর বিধায়ক চৈতর ভাসাভা এবং গোপাল ইতালিয়াও অবৈধ মদ ও মাদকের ইস্যুতে সরকারকে ক্রমাগত কোণঠাসা করছে। পার্টির লক্ষ্য হল আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনগুলিতে (Municipal Elections) বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটানো, বিশেষ করে সুরাটে, যেখান থেকে এটি গুজরাটে রাজনৈতিক পরিচিতি পেয়েছিল।

SIR-এর পর স্থানীয় নির্বাচন, বাড়বে রাজনৈতিক উত্তাপ

বর্তমানে গুজরাটে ভোটার তালিকা সংশোধনের (Special Intensive Revision – SIR) কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গান্ধীনগর এবং জুনাগড় বাদে আহমেদাবাদ, সুরাট, ভাদোদরা, রাজকোট সহ অন্যান্য শহরগুলিতে পৌরসভা এবং স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনগুলি এখন ২০২৬ সালে সম্ভাব্য, যখন এর ঠিক পরের বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এমন পরিস্থিতিতে সব দল এখন থেকেই তাদের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে নেমে পড়েছে।

আম আদমি পার্টি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো দলের সাথে নির্বাচনী জোট (Alliance) করবে না। এমন অবস্থায় আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলিতে বিজেপি, কংগ্রেস এবং AAP-এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী। বিজেপি যেখানে ক্ষমতার জোরে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, वहीं কংগ্রেসের সামনে দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জ— একদিকে বিজেপির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অন্যদিকে AAP দ্বারা তার ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসানো।

মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল (Bhupendra Patel)-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের সম্প্রতি মন্ত্রিসভার রদবদলের পর নতুন মন্ত্রীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ভালসাদে আয়োজিত চিন্তন শিবিরে (Chintan Shivir) রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a comment