Gum Bleeding: ব্রাশ করলেই মাড়ি থেকে রক্ত? জিঞ্জিভাইটিসের লক্ষণ হতে পারে, হৃদ্‌রোগ-ডায়াবেটিসের সঙ্গেও রয়েছে যোগ

দাঁত ব্রাশের সময় বারবার মাড়ি থেকে রক্ত পড়ছে? জিঞ্জিভাইটিস, পেরিওডোন্টাইটিসের কারণ ও ডায়াবেটিস-হৃদ্‌রোগের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে জানুন।

দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে হঠাৎ মাড়ি থেকে রক্ত! কখনও শক্ত খাবার চিবোতে গিয়েও একই সমস্যা। অনেকেই ভাবেন, ব্রাশটা হয়তো একটু বেশি জোরে হয়ে গিয়েছে। কেউ আবার একে ‘পাইরিয়া’ বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বারবার এমনটা হলে সতর্ক হওয়া দরকার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া মুখের ভেতরের কোনও সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে এবং দীর্ঘদিনের মাড়ির প্রদাহের সঙ্গে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে।

বারবার মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে? কারণ কী হতে পারে?

সুস্থ মাড়ি সাধারণত সামান্য চাপেই রক্তপাত করে না। দাঁত ব্রাশ করার সময় নিয়মিত রক্ত দেখা গেলে মুখের পরিচ্ছন্নতার সমস্যা, দাঁতের গোড়ায় প্লাক বা টারটার জমা কিংবা মাড়ির প্রদাহের মতো কারণ থাকতে পারে।বিশেষ করে জিঞ্জিভাইটিস হলে মাড়ি লাল, ফুলে যাওয়া এবং স্পর্শ করলে রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না করালে সমস্যা আরও গভীরে পৌঁছে পেরিওডোন্টাইটিসে পরিণত হতে পারে।

জিঞ্জিভাইটিস থেকে পেরিওডোন্টাইটিস—কেন ভয়?

মাড়ির প্রাথমিক প্রদাহ দীর্ঘদিন untreated থাকলে দাঁতকে ধরে রাখা টিস্যু ও হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া, মুখে দুর্গন্ধ, মাড়ি সরে যাওয়া কিংবা দাঁত পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।তাই শুধু রক্তপাত বন্ধ হলেই সমস্যা মিটে গিয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মাড়ির রক্তপাতের মূল কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদ্‌রোগের সঙ্গেও কি সম্পর্ক রয়েছে?

মাড়ির রোগ এবং হৃদ্‌রোগের মধ্যে একটি সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির প্রদাহ শরীরে সামগ্রিক প্রদাহের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কিছু গবেষণায় গুরুতর পেরিওডোন্টাল রোগের সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক দেখা গেলেও, মাড়ির রোগ সরাসরি হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোক ঘটায়—এমন সরল কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণিত নয়।তবে মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণকে অবহেলা না করাই ভালো। মুখের স্বাস্থ্য ঠিক রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রোকের ক্ষেত্রেও কেন সতর্কতা?

হৃদ্‌রোগের মতোই পেরিওডোন্টাল রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং অন্যান্য সাধারণ ঝুঁকির কারণ এই সম্পর্কের পিছনে ভূমিকা রাখতে পারে।তাই মাড়ি থেকে নিয়মিত রক্ত পড়লে শুধু দাঁতের সমস্যা ভেবে মাসের পর মাস ফেলে রাখা উচিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, স্থূলতা বা অন্যান্য হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিসের সঙ্গে মাড়ির রোগের যোগ কোথায়?

ডায়াবেটিস ও মাড়ির রোগের মধ্যে দ্বিমুখী সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে মাড়িতে সংক্রমণ ও প্রদাহের প্রবণতা বাড়তে পারে। আবার গুরুতর পেরিওডোন্টাল রোগ থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু রোগ নয়, আরও কিছু কারণেও হতে পারে রক্তপাত

মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার পিছনে সবসময় বড় কোনও রোগ থাকবে এমন নয়। বেশ কিছু সাধারণ কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—

খুব জোরে বা ভুল পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করা

দাঁতের গোড়ায় প্লাক বা টারটার জমা

মুখের অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা

ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার

ভিটামিন C-এর ঘাটতি

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মাড়িতে সংক্রমণ বা প্রদাহ

তাই নিজে থেকে কারণ ধরে নিয়ে ওষুধ না খেয়ে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কী করলে মাড়ি সুস্থ থাকবে?

মাড়ির সমস্যা এড়াতে নিয়মিত ও সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার করা জরুরি। নরম ব্রিসলের টুথব্রাশ ব্যবহার করে দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করা, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত ডেন্টাল চেক-আপ করা উপকারী।ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।

কখন দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

এক-দু’বার সামান্য রক্তপাত হওয়ার সঙ্গে যদি সমস্যা থেমে যায়, পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। কিন্তু বারবার মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত নড়ে যাওয়া, পুঁজ, দীর্ঘস্থায়ী মুখের দুর্গন্ধ বা চিবোতে ব্যথা হলে দেরি না করে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দাঁত ব্রাশ করার সময় বা খাবার খাওয়ার পর বারবার মাড়ি থেকে রক্ত পড়াকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু নিয়মিত মাড়ি থেকে রক্ত পড়া জিঞ্জিভাইটিস বা পেরিওডোন্টাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। দীর্ঘদিনের মাড়ির প্রদাহের সঙ্গে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলোচনা রয়েছে। তাই উপসর্গ বারবার দেখা দিলে অবহেলা না করে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a comment