রাত পোহালেই ক্রিসমাস। তার পরেই নিউ ইয়ার। উৎসব মানেই জমাটি আড্ডা, দেদার খানাপিনা আর অনেকের প্ল্যানে থাকে মদ্যপান। কিন্তু একটু বেশি হলেই বিপদ! পরের দিন শুধু হ্যাংওভার নয়, ভুগতে হতে পারে এক মারাত্মক মানসিক সমস্যায়—যার নাম হ্যাংজাইটি (Hangxiety)।
হ্যাংজাইটি কী?
হ্যাংজাইটি হল হ্যাংওভার + অ্যাংজাইটি—এই দুই সমস্যার মিশ্রণ। অতিরিক্ত মদ্যপানের পর শরীর যখন ধীরে ধীরে অ্যালকোহলের প্রভাব কাটিয়ে ওঠে, তখন আচমকাই তীব্র উদ্বেগ, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়, ভয় বা প্যানিকের অনুভূতি দেখা দিতে পারে।
মদের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিপজ্জনক খেলা
অ্যালকোহল শুধু লিভারের ক্ষতি করে না, সরাসরি প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কে। মদ্যপানের সময় ব্রেনে GABA এবং সেরোটোনিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে সাময়িকভাবে মন ভালো থাকে, উদ্বেগ কমে।কিন্তু মদ খাওয়া বন্ধ করলেই পরিস্থিতি উল্টো—GABA-এর মাত্রা হঠাৎ কমে যায়। তখন মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং শুরু হয় অস্থিরতা ও অ্যাংজাইটি।
কেন হ্যাংজাইটি আরও ভয়ংকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাংজাইটির সময় অনেকের মধ্যে—
প্যানিক অ্যাটাক
বুক ধড়ফড়
অকারণ ভয়
মনোযোগের অভাব
ঘুমের সমস্যা
দেখা দিতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই অ্যাংজাইটির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

ডিহাইড্রেশন বাড়ায় সমস্যা
মদ্যপান করলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেট হয়ে যায়। প্রস্রাবের মাধ্যমে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। এর ফলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং হ্যাংওভার আরও তীব্র হয়—যা হ্যাংজাইটিকে বাড়িয়ে তোলে।
চিকিৎসকের পরামর্শ
মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হ্যাংওভারের কারণে ঘুম ঠিকমতো না হলে অ্যাংজাইটি আরও বাড়ে। ঘুমের অভাব মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে এবং ব্রেন ফগ তৈরি করে।
হ্যাংজাইটি এড়ানোর উপায়
মাত্রা বুঝে মদ্যপান করুন (৬০ মিলির বেশি একসঙ্গে নয়)
একাধিক ধরনের মদ একসঙ্গে খাবেন না
মদের সঙ্গে পর্যাপ্ত জল পান করুন
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান
পরের দিন পর্যাপ্ত ঘুম নিন
হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা করুন
ক্রিসমাস ও বর্ষবরণ মানেই পার্টি আর পানাহার। কিন্তু অতিরিক্ত মদ্যপানের পরের দিন শুধু মাথাব্যথা বা বমিভাবেই শেষ নয়, হতে পারে ‘হ্যাংজাইটি’। হ্যাংওভার ও অ্যাংজাইটির যুগলবন্দিতে তৈরি এই সমস্যা মানসিক ও শারীরিক দুই দিক থেকেই বিপজ্জনক।













