অনেক সময় সাধারণ গলা ব্যথা বা মুখের ছোট ঘাকেই আমরা তেমন গুরুত্ব দিই না। কিন্তু এই আপাত সাধারণ উপসর্গগুলিই কখনও কখনও মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, তামাক সেবন, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং HPV সংক্রমণের কারণে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
![]()
দীর্ঘদিনের গলা ব্যথা হতে পারে সতর্কবার্তা
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হল দীর্ঘ সময় ধরে গলা ব্যথা থাকা। এর পাশাপাশি কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা, খাবার গিলতে ব্যথা বা অস্বস্তি এবং ঘন ঘন মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা এগুলিকে সাধারণ সংক্রমণ ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন, ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।
মুখে সাদা বা লাল দাগকে অবহেলা নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ভিতরে সাদা বা লাল রঙের ছোপ, দীর্ঘদিন না শুকানো ঘা এবং চোয়ালে ফোলাভাব ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। যদি কোনও ঘা ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে না সারে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মুখ খুলতে সমস্যা হওয়া বা কৃত্রিম দাঁত ব্যবহারে অসুবিধাও সতর্কতার ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘাড়ে পিণ্ড বা কানে ব্যথা বাড়াতে পারে উদ্বেগ
ঘাড়, গলা বা মুখের কোনও অংশে অস্বাভাবিক পিণ্ড বা ফোলাভাব দেখা গেলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার। এছাড়া একদিকে কানে ব্যথা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, বারবার কানের সংক্রমণ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা রক্তমিশ্রিত লালা বের হওয়ার মতো উপসর্গও মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
![]()
তামাক ও মদ্যপানই বড় ঝুঁকির কারণ
চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান, গুটখা, জর্দা ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য এই ক্যানসারের প্রধান কারণ। অতিরিক্ত মদ্যপানও ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) সংক্রমণ বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুখগহ্বর ও গলার ক্যানসারের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
কর্মক্ষেত্র ও পরিবেশগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ
কাঠের গুঁড়ো, অ্যাসবেস্টস, নিকেল বা ফরমালডিহাইডের মতো রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। অতিবেগুনি রশ্মির অতিরিক্ত প্রভাব, কিছু জিনগত রোগ এবং পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
![]()
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণই বাঁচাতে পারে জীবন
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার দ্রুত ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানে সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
![]()
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। দীর্ঘদিনের গলা ব্যথা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, মুখে সাদা বা লাল দাগ, না শুকানো ঘা কিংবা ঘাড়ে পিণ্ড—এই সব উপসর্গকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি।








