বাজারে মাছ কিনতে গেলে অধিকাংশ মানুষই ইলিশ, কাতলা, রুই বা পাবদার খোঁজ করেন। কিন্তু সেই চেনা তালিকার বাইরেও এমন একটি মাছ রয়েছে, যা স্বাদে যেমন দুর্দান্ত, তেমনই স্বাস্থ্যগুণেও ভরপুর। ‘বার মুটান ফিশ’ বা ভোলা ভেটকি এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে স্বাস্থ্যসচেতনদের খাদ্যতালিকায়। কম খরচে বেশি পুষ্টি পাওয়ার কারণে এই মাছকে অনেকেই বলছেন ‘গরিবের সুপারফুড’।
সস্তা হলেও পুষ্টিতে ভরপুর
বার মুটান বা কোরাল ফিশ দেখতে অনেকটা দেশি ভেটকির মতো। দুধ-সাদা রঙের শরীর, কালো লেজ এবং হালকা গোলাপি আভা এই মাছকে সহজেই আলাদা করে দেয়। তুলনামূলকভাবে কম দামে বাজারে মিললেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে এই মাছ অনেক দামি সামুদ্রিক মাছকেও টক্কর দিতে পারে।
কোলেস্টেরলের বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ধমনিতে প্লাক জমার প্রবণতাও কমায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। যাঁদের উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই মাছ উপকারী হতে পারে।
দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে
বার মুটান ফিশে ফ্যাটের পরিমাণ কম হলেও প্রোটিনের মাত্রা অনেক বেশি। ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। যারা ওজন কমানোর ডায়েট মেনে চলছেন, তাঁদের জন্য এই মাছ হতে পারে আদর্শ খাবার।
রক্তচাপ ও জয়েন্টের সমস্যাতেও উপকারী
এই মাছে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন বি৩ বা নায়াসিন শরীরের জয়েন্টের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমাণমতো এই মাছ খেলে শরীরের প্রদাহও কমে।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে বলে বহু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। ফলে এই মাছ নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হতে পারে।
মাছপ্রিয় বাঙালির পাতে এবার নতুন চমক। ইলিশ-ভেটকি-রুইয়ের ভিড়ে তুলনামূলক কম পরিচিত ‘বার মুটান’ বা ভোলা ভেটকি মাছ এখন নজর কাড়ছে পুষ্টিগুণের কারণে। দাম কম হলেও এই মাছে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন ও ভিটামিন বি৩। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এই মাছ খেলে কমতে পারে কোলেস্টেরল, নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে রক্তচাপ, এমনকি দ্রুত ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে এই মাছ।













