দেশজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভূমিধস এবং ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ আগামী কয়েক দিন বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে।
মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে পাতালগঙ্গা নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায়। বন্যার জল পানভেলের একটি এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টে ঢুকে পড়ায় প্রায় ৩,০০০টি এলপিজি সিলিন্ডার ভেসে যায়। প্রশাসন জানিয়েছে, কোথাও ভেসে আসা সিলিন্ডার দেখা গেলে তা স্পর্শ বা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করতে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সিলিন্ডারগুলির সন্ধান ও নিরাপদে অপসারণের কাজ করছে।
মধ্যপ্রদেশে বুধবার ২৭টির বেশি জেলায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দামোহ জেলায় সর্বাধিক ১.৭৫ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছে। খারগোন জেলার রূপারেল নদীর প্রবল স্রোতে এক যুবক ভেসে যান। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল তাঁর সন্ধান চালাচ্ছে। একাধিক জেলায় নদী ও জলাশয়ের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজস্থানের আজমের জেলার কিশনগড় এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে একটি বাড়ি ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভিতরে থাকা স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দল তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আলওয়ারেও ভারী বৃষ্টির কারণে বাজার ও প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। রেলস্টেশন, মুনিরকা, সঙ্গম বিহারসহ একাধিক এলাকায় সড়ক জলমগ্ন হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ দিল্লির জন্য অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর আগে রোহিণী এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ ভবন ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
![]()
গুজরাটের সুরাট জেলায় টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে বন্যাসদৃশ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। টানা বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় রাজ্যে এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসন ত্রাণ শিবির পরিচালনা এবং উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের পুনে শহরে ভারী বৃষ্টির সময় একটি বড় আবর্জনার স্তূপ সরে গিয়ে তিনতলা একটি ভবনের ওপর পড়ে। এতে ভবনের একটি অংশ ধসে যায়। মুথা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের নিচু এলাকায় জল ঢুকে পড়ে। একাধিক সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়কে ভূমিধসের পর রাস্তা থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। হরিদ্বারে টানা বৃষ্টিতে একাধিক কলোনি ও সড়কে জল জমেছে। উত্তরপ্রদেশের আগরায় বৃষ্টির মধ্যে একটি দোতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়ে। দুর্ঘটনায় ছয়জন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকারী দল তাঁদের বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের লোনাভালা-কারজাত ঘাট সেকশনে ভূমিধসের কারণে রেললাইনে ধ্বংসাবশেষ জমে যায়। এর ফলে একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রেলকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে লাইন পরিষ্কারের কাজ করছেন। কর্মকর্তাদের মতে, তিনটি লাইনের মধ্যে একটি লাইনে পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে এবং বাকি দুটি লাইনে মেরামতের কাজ চলছে। যাত্রীদের যাত্রার আগে ট্রেনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ এলাকায় পৌঁছে গেছে। আগামী কয়েক দিনে মধ্য ভারত, পশ্চিম ভারত, হিমালয় সংলগ্ন রাজ্য এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন নদীর তীরবর্তী এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।











