নবান্নের সামনে ধরনা নয়—রাজ্য সরকারের অবস্থানকেই কার্যত মান্যতা দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আইপ্যাক সংক্রান্ত বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার প্রতিবাদে নবান্নের সামনে ধরনায় বসতে চেয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু উচ্চ নিরাপত্তার যুক্তিতে সেই আবেদন খারিজ করে আদালত বিকল্প স্থানে সীমিত আকারে ধরনার অনুমতি দিয়েছে।
নবান্ন ‘হাই সিকিওরিটি জোন’, স্পষ্ট বার্তা আদালতের
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নবান্ন রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং হাই সিকিওরিটি জোন। সেখানে ধরনা হলে আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচলে গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই নবান্নের সামনে কোনও অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে মত আদালতের।
বিকল্প জায়গায় ধরনায় সবুজ সংকেত
তবে আদালত একেবারে ধরনার অনুমতি বাতিল করেনি। বিচারপতির প্রস্তাব অনুযায়ী, নবান্ন থেকে কিছুটা দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে ধরনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ওই কর্মসূচি চলতে পারবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আইপ্যাক কাণ্ডের সূত্রেই ধরনার ডাক
গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, আইপ্যাকের দপ্তরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নথি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যান। এই ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক পরিসরে হস্তক্ষেপ’ বলে দাবি করে নবান্নের সামনে ধরনার কর্মসূচি ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী।
ধরনার জন্য একগুচ্ছ কড়া শর্ত
হাই কোর্ট ধরনার অনুমতি দিলেও বেশ কিছু কঠোর শর্ত বেঁধে দিয়েছে। সেগুলি হল—
নবান্নের সামনে নয়, মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে ধরনা করতে হবে
মঞ্চের আকার সর্বোচ্চ ১২ ফুট × ১৫ ফুট
মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না
৫০ জনের বেশি বিধায়ক জমায়েত করা যাবে না
ধরনামঞ্চ থেকে কোনও প্ররোচনামূলক বক্তব্য নয়
সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা জনজীবনে ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না
ধরনার সময়সীমা ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে
ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার পথে বিজেপি
সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশে সন্তুষ্ট নয় বিজেপি। আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্তকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। ফলে এই রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
আইপ্যাক কাণ্ডে নবান্নের সামনে ধরনার অনুমতি না দিয়ে রাজ্য সরকারের শর্তকেই গুরুত্ব দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নির্দিষ্ট শর্তে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে ধরনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও এই নির্দেশে অসন্তুষ্ট বিজেপি ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।










