হিঙ-তামার ঘরোয়া টোটকায় উইপোকা দমন! বর্ষায় বাগান বাঁচাতে কতটা কার্যকর এই উপায়?

বর্ষায় গাছে উইপোকার উপদ্রব বেড়েছে? হিঙ, তামা ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি ঘরোয়া দ্রবণ কতটা কার্যকর, কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন।

বাগানের গাছ হঠাৎ শুকিয়ে যাচ্ছে, কাণ্ড ফাঁপা হয়ে যাচ্ছে কিংবা গোড়ার চারপাশে মাটির ঢিবি দেখা যাচ্ছে? এগুলি উইপোকার আক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। বর্ষার ভেজা পরিবেশে এই সমস্যা আরও বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই রাসায়নিকের পরিবর্তে ঘরোয়া সমাধানের খোঁজ করেন। সেই তালিকাতেই জনপ্রিয় হচ্ছে হিঙ ও তামা মিশিয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক দ্রবণ।

বর্ষার আর্দ্রতায় কেন বাড়ে উইপোকার উপদ্রব?

উইপোকা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে। বাগানে জল জমে থাকা, নিষ্কাশনের সমস্যা এবং পচা জৈব পদার্থের উপস্থিতি তাদের আকৃষ্ট করে। প্রথমে শিকড় ও কাণ্ডের ভেতরের অংশে আক্রমণ চালালেও বাইরে থেকে অনেক সময় ক্ষতি বোঝা যায় না। ফলে গাছ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

কীভাবে তৈরি করবেন ঘরোয়া দ্রবণ?

লোকজ পদ্ধতি অনুযায়ী একটি মাটির পাত্রে গরুর দুধের ছাঁচ, অল্প হিঙ, গোমূত্র এবং একটি ছোট তামার টুকরো মিশিয়ে রাখতে হয়। কাঠের চামচ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে ছায়াযুক্ত স্থানে প্রায় এক সপ্তাহ রাখা হয়। এরপর মিশ্রণটি ছেঁকে স্প্রে বোতলে ভরে ব্যবহার করা যায়।

স্প্রে করার সঠিক নিয়ম

দ্রবণটি সরাসরি গাছের কাণ্ড, গোড়া এবং উইপোকা আক্রান্ত অংশে স্প্রে করতে বলা হয়। কয়েকদিন অন্তর ব্যবহার করলে উপকার মিলতে পারে বলে দাবি করা হয়। তবে নতুন চারা বা কোমল গাছে অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো।

হিঙ-জলের সহজ বিকল্প

আরও সহজ একটি উপায় হল এক লিটার জলে প্রায় আধ গ্রাম হিঙ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা। এটি গাছের চারপাশের মাটিতে দেওয়া যেতে পারে। তবে শিকড়ের একেবারে কাছে না দিয়ে কিছুটা দূরে প্রয়োগ করা নিরাপদ।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি কী বলছে?

উল্লেখ্য, হিঙ বা তামার এই মিশ্রণের কার্যকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখনও নেই। তাই এটিকে নিশ্চিত সমাধান হিসেবে ধরা উচিত নয়। যদি গাছে ব্যাপক উইপোকার সংক্রমণ দেখা যায়, তাহলে আক্রান্ত অংশ ছেঁটে ফেলা, মাটি শুকনো রাখা এবং প্রয়োজন হলে কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

বাগান বাঁচাতে আরও কিছু টিপস

গাছের গোড়ায় জল জমতে দেবেন না।

পচা কাঠ বা শুকনো ডালপালা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।

নিয়মিত গাছের কাণ্ড ও শিকড় পরীক্ষা করুন।

নতুন গাছ লাগানোর আগে মাটি পরিষ্কার ও ঝুরঝুরে রাখুন।

জৈব সার ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত আর্দ্রতা এড়িয়ে চলুন।

বর্ষাকালে আর্দ্রতা বাড়তেই গাছের গোড়া ও শিকড়ে উইপোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। ঘরোয়া উপায়ে হিঙ, তামা, গোমূত্র ও দুধের ছাঁচ ব্যবহার করে তৈরি একটি দ্রবণ উইপোকা দমনে সাহায্য করতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত লোকজ পদ্ধতি; বড় আকারের সংক্রমণে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থা নেওয়াই বেশি কার্যকর।

Leave a comment