হোলির সকাল মানেই পাড়ায় পাড়ায় ভেসে আসে এক গলা— “রং বরসে ভিগে চুনরওয়ালি…”। আর বিকেলে তাল বদলালে শোনা যায়— “হোলি খেল রঘুবীরা আওধ মে…”。 দু’টিই গেয়েছেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু মজার বিষয়, শুরুতে তাঁর নাকি কোনও ইচ্ছাই ছিল না প্লেব্যাক করার! তাহলে কেন তাঁকেই দিয়ে গাওয়ানো হল বলিউডের সেরা দুই হোলি গান?
‘রং বরসে’— ঘরের আঙিনা থেকে পর্দায়
১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Silsila ছবির ‘রং বরসে’ আজ কিংবদন্তি। এই গানের শিকড় ছিল বচ্চন পরিবারের হোলি উদযাপনে। অমিতাভ শিখেছিলেন তাঁর বাবা, কবি Harivansh Rai Bachchan-এর কাছ থেকে।শোনা যায়, বাড়িতে প্রতি বছর হোলিতে এই লোকধর্মী সুর গাওয়া হত। একদিন সেটিই শোনেন পরিচালক Yash Chopra। তিনি চেয়েছিলেন গানের স্বাদ যেন অটুট থাকে। তাই অন্য গায়কের বদলে অমিতাভকেই মাইক্রোফোন ধরতে বলেন। প্রথমে অনীহা থাকলেও শেষমেশ রাজি হন বিগ বি— আর জন্ম নেয় এক অমর হোলি অ্যান্থেম।
‘হোলি খেল রঘুবীরা’— লোকসুরের নতুন রূপ
দুই দশক পরে ২০০৩ সালে মুক্তি পায় Baghban। ছবিতে প্রয়োজন ছিল একটি প্রাণবন্ত হোলি গানের। সুরকার Aadesh Shrivastava মনে করেন, উত্তর প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকসঙ্গীত ‘হোলি খেল রঘুবীরা’কে নতুনভাবে সাজানো যায়।আদেশ নিজেই শুনেছিলেন অমিতাভ ও তাঁর বাবাকে এই সুর গাইতে। তাই তাঁর জোরাজুরিতেই আবার মাইকে ফেরেন অমিতাভ। পর্দায় Hema Malini-র সঙ্গে রঙের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা সেই গানও হয়ে ওঠে সুপারহিট।
কেন অমিতাভই?
দু’টি ক্ষেত্রেই মূল কারণ ছিল ‘অরিজিনাল ফিল’। পরিচালক ও সুরকাররা মনে করেছিলেন, এই গানগুলির আবেগ ও মাটির গন্ধ ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে পারবেন একমাত্র অমিতাভ নিজেই। তাঁর গলায় যে ঘরোয়া স্বাদ, সেটাই পর্দায় দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছিল।
প্লেলিস্টে আজও অমলিন
হোলির রং বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু এই দুই গান অটুট। ‘রং বরসে’ হোক বা ‘হোলি খেল রঘুবীরা’— রঙের উৎসব যেন অমিতাভের কণ্ঠেই পূর্ণতা পায়।
বলিউডের দুই সেরা হোলি গান— ‘রং বরসে’ ও ‘হোলি খেল রঘুবীরা’— গেয়েছিলেন নিজেই Amitabh Bachchan। অথচ পেশাদার গায়ক নন তিনি। পারিবারিক ঐতিহ্য, পরিচালকের জোরাজুরি আর সুরকারের আবদার— এই তিনেই তৈরি হয়েছিল ইতিহাস। রঙের উৎসবের প্লেলিস্ট আজও এই দুই গান ছাড়া অসম্পূর্ণ।













