বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বাঁশি পুতুল এবার একেবারে নতুন সাজে। মাটির বাঁশির সঙ্গে বাদামের খোসা জুড়ে গণেশের আদলে অনন্য শিল্পকর্ম তৈরি করে চমক দিয়েছেন হাওড়ার শিল্পী রাজকুমার দেবনাথ। তাঁর হাতে ঐতিহ্য যেন পেয়েছে আধুনিক সৃজনের নতুন ভাষা।
প্রাচীন ঐতিহ্যের আধুনিক রূপ
বাঁশি পুতুল বাংলার লোকশিল্পের এক অমূল্য ঐতিহ্য। পশু-পাখির আকারে তৈরি এই মাটির বাঁশি শুধু খেলনা নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির স্মারক। বহু প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে এর সাদৃশ্য পাওয়া যায়। সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকেই নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন হাওড়ার রাজকুমার দেবনাথ।
বাদামের খোসায় সৃজনের ছোঁয়া
শিল্পীর অভিনবত্ব এখানেই—তিনি বাক্স বাদামের কাঠের খোলসের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মাটির তৈরি বাঁশি। বিশেষ কৌশলে বাঁশিটিকে গণেশের শুঁড়ের আকারে সাজানো হয়েছে। শুঁড়ের মুখে ফুঁ দিলেই বেজে ওঠে মাটির বাঁশি। ঐতিহ্য ও উদ্ভাবনের এই মেলবন্ধন দর্শকদের মুগ্ধ করছে।
গণেশ থেকে পাখি—বহুরূপে বাঁশি পুতুল
শুধু গণেশের আদলেই নয়, বিভিন্ন পাখির আকারেও সাজানো হয়েছে এই বাঁশি পুতুল। রঙিন তুলির টানে প্রতিটি শিল্পকর্ম হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। বাদামের খোসার প্রাকৃতিক গঠনকে কাজে লাগিয়ে তার উপর সূক্ষ্ম নকশা এঁকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা দিয়েছেন শিল্পী।
সম্পূর্ণ নিজস্ব কল্পনায় নির্মাণ
রাজকুমার দেবনাথ জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ নিজের কল্পনা ও শৈল্পিক দক্ষতায় তিনি এই কাজ করেছেন। কোনও ছাঁচ নয়, প্রতিটি বাঁশি পুতুল আলাদা বৈশিষ্ট্যে তৈরি। ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক শিল্পভাবনার সংযোজনই তাঁর লক্ষ্য।
শিল্পপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে
নতুন রূপে বাঁশি পুতুল দেখে বহু মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সংগ্রাহক ও সাধারণ ক্রেতা—উভয় মহলেই সাড়া মিলছে। লোকশিল্পের এমন উদ্ভাবনী উপস্থাপন ভবিষ্যতে আরও বড় বাজার তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
হাওড়ার শিল্পী রাজকুমার দেবনাথ বাংলার প্রাচীন বাঁশি পুতুলকে অভিনব রূপে তুলে ধরেছেন। মাটির বাঁশির সঙ্গে বাক্স বাদামের খোসা যুক্ত করে তৈরি করেছেন গণেশ ও পাখির আদলে নতুন ডিজাইন। ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার এই মেলবন্ধন ইতিমধ্যেই শিল্পপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।













