সকাল ১০টায় দিঘা পৌঁছনোর কথা, দুপুর গড়িয়ে গেলেও ছাড়ল না ট্রেন! হাওড়া–দিঘা তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসে চরম দুর্ভোগ

সকাল ১০টায় দিঘা পৌঁছনোর কথা, দুপুর গড়িয়ে গেলেও ছাড়ল না ট্রেন! হাওড়া–দিঘা তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসে চরম দুর্ভোগ

দু’-একদিনের ছুটিতে দিঘা—বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় সমুদ্রসৈকত। কিন্তু সেই আনন্দের যাত্রাই পরিণত হল দুর্ভোগে। সকাল ১০টার মধ্যে দিঘা পৌঁছনোর কথা থাকলেও, দুপুর ১২টা পেরিয়েও হাওড়া স্টেশন ছাড়ল না তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর তথ্যের অভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন যাত্রীরা।

নির্ধারিত সময় বনাম বাস্তব চিত্র

সাধারণত হাওড়া–দিঘা তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস (১২৮৫৭) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে হাওড়া ছেড়ে দিঘায় পৌঁছয় সকাল ১০টা ৫ মিনিটে। মোট যাত্রা সময় মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট। কিন্তু সোমবার সেই ট্রেনই কার্যত ৬ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে।

আগাম লেটের ঘোষণা, তবু বিভ্রান্তি

রেল সূত্রে জানানো হয়েছিল, ট্রেনটি দেরিতে ছাড়বে এবং আনুমানিক সকাল ১১টার মধ্যে যাত্রা শুরু করবে। কিন্তু ১১টা বেজে গেলেও ট্রেনের কোনও হদিস নেই। টাইম সিডিউল বোর্ডে বারবার ১১টাই দেখানো হচ্ছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনও নড়াচড়া নেই।

ঘোষণার অভাবেই ক্ষোভ চরমে

সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন যাত্রীরা তথ্যের অভাবে। ট্রেন আদৌ ছাড়বে কি না, নাকি বাতিল—সে বিষয়ে ন্যূনতম ঘোষণাও করেনি রেল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর যাত্রীরা যাত্রী অনুসন্ধান অফিসে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।

দুপুরে ছাড়ল ট্রেন, ততক্ষণে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙা

শেষমেশ ২৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের ঘোষণা করা হয়। তবে ঘোষণার পরও বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে চাকা গড়ায় তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস। সাড়ে ৩ ঘণ্টার যাত্রাপথে ৬ ঘণ্টার দেরি—যাত্রীদের প্রশ্ন, “হয়রানির একটা সীমা থাকা উচিত নয়?”

পর্যটন মরশুমে ফের প্রশ্ন রেলের ভূমিকা নিয়ে

শীতের মরশুমে দিঘাগামী ট্রেনগুলিতে যাত্রীচাপ বরাবরই বেশি। তার উপর এমন অব্যবস্থা ফের প্রশ্ন তুলে দিল রেলের প্রস্তুতি ও যাত্রী পরিষেবা নিয়ে।

হাওড়া–দিঘা তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের থেকে প্রায় ৬ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ায় তীব্র ক্ষোভ যাত্রীদের মধ্যে। কোনও স্পষ্ট ঘোষণা বা তথ্য না দেওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a comment